মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গৃহনির্মাণ শিল্পের এক নিবেদিত কারিগর ধ্বজো মেস্তরীকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটক ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণথ’ নতুন রূপে ফিরে আসছে মঞ্চে। প্রায় দুই দশক আগে ২০০৫ সালে প্রথম মঞ্চায়িত এই নাটকটি মাঝখানে একাধিকবার প্রদর্শিত হয়ে পেয়েছিল ব্যাপক সাড়া। দীর্ঘদিন পর নাটকটি এবার নতুন সংযোজন ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে পুনরায় দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছে।
১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের মণিপুরি থিয়েটারের নটম-পে নাটকটির পাঁচটি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। গত ১১ ও ১২ ডিসেম্বর দুদিন প্রদর্শনী হয় এবং আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটকটি শেষবার মঞ্চস্থ হবে। দর্শনার্থীরা ৫০ থেকে ৫০০ টাকার বিভিন্ন ক্যাটাগরির টিকিট কিনে নাটকটি উপভোগ করতে পারবেন। মঞ্চায়নের আগে কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যাবে।
স্মৃতিকুমার সিংহের গল্প অবলম্বনে নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষার মিশ্রণে তৈরি নাটকটিতে সূত্রধারের ভূমিকায় আছেন জ্যোতি সিনহা। তরুণ ও বয়স্ক ধ্বজোর চরিত্রে অভিনয় করছেন সমরজিৎ সিংহ ও বিধান সিংহ। অভিনয়ে আরও রয়েছেন স্বর্ণালী সিনহা, শিউলি সিনহা, সুবর্ণা সিনহা, রাজকান্ত সিংহ, দীপ্ত সিংহ, রুহিত সিংহ, সীমান্ত সিংহ, অনন্যা সিনহা ও স্বর্ণালী শর্মা।
নাটকের সংগীত পরিচালনা করছেন শর্মিলা সিনহা; বাদ্যে আছেন রনি সিংহ ও অঞ্জনা সিনহা। আলোক পরিকল্পনা করেছেন আসলাম অরণ্য, পোস্টার নির্মাণে সজলকান্তি সিংহ এবং ব্যবস্থাপনায় আপন সিংহ ও দেবজিৎ সিংহ।
ধ্বজো মেস্তরীর নির্মিত ঘরগুলো সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যেতে থাকলে তার শিল্পকর্মের শেষ প্রতীক হয়ে টিকে ছিল নিজের ঘরটি। কিন্তু আধুনিকতার চাপে সেই ঘরও একসময় ছেলেরা ভেঙে ফেললে ধ্বজোর স্মৃতি, শ্রম সবকিছুরই যেন ইতি ঘটে। পাড়ার লোকজন যখন ভগ্নাবশেষ সরিয়ে নিতে যায়, ধ্বজোর মনে হয় ওরা যেন তার নিজের দেহই বহন করছে। প্রান্তিক ইতিহাসের এক গৃহনির্মাণ ঐতিহ্যের অবসান ফুটে ওঠে এই ঘটনাপ্রবাহে।
শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জে নাটক দেখতে এসেছেন জহিরুল মিঠু। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকায় পরিবেশনা হওয়ার পর অনলাইনে ছোট ছোট ক্লিপ দেখে অপেক্ষায় ছিলাম কবে সরাসরি দেখতে পারব। পরিবার নিয়ে এসে পুরোটা দেখলাম। অনেক ভালো লাগছে। খুব সুন্দর একটা সময় অতিবাহিত করেছি।
নাটকটিতে সূত্রধারের ভূমিকায় আছেন জ্যোতি সিনহা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০ বছর আগেও আমি এই নাটকে কাজ করেছিলাম, তখন একেবারে নবীন ছিলাম। আমার সঙ্গের ওই সময়ের কেউ এই নাটকে নেই জীবনের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন, এখন সব নবীনদের নিয়ে কাজ করছি, পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও পাচ্ছি।