মেসিকে ভারতে আনার উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত গ্রেপ্তার

লিওনেল মেসিকে ভারতে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতার যুব ভারতী স্টেডিয়ামে টিকিট কেটে এসেও দর্শকরা মেসির দেখা পাননি। তাকে ঘিরে ছিলেন কিছু রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন জগতের তারকারা। এরপর স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত দর্শকরা। এরই প্রেক্ষিতে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ এদিন যুব ভারতী স্টেডিয়ামে লুটপাট চালায়। ঘাস, চেয়ার, গাছের টব নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দেন অনেকে। কলকাতা পর্ব শেষে আজই হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা মেসির। সেই সময়েই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে। পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার গঠিত একটি কমিটি পুরো ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখবে—ভেন্যুতে যে বিপর্যয় ঘটেছে, তাতে ব্যবস্থাপনার গাফিলতির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আয়োজকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিক্রি হওয়া সব টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা মূল আয়োজককে আটক করেছি এবং নিশ্চিত করছি, এই অব্যবস্থাপনার জন্য কেউ পার পাবে না। একই সঙ্গে দর্শকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”

শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে (যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন) উপস্থিত হয়ে দর্শকদের উদ্দেশে ‘ল্যাপ অব অনার’ দিতে গিয়েও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা অসম্পূর্ণ রেখেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। তাকে দেখতে স্টেডিয়ামে উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল। এক পর্যায়ে অনেক দর্শক প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে না পারার ক্ষোভে বোতল ছুড়তে শুরু করে। কয়েকটি স্থানে ব্যানার ও আসন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে মেসিকে ২০ মিনেটের মধ্যেই স্টেডিয়াম থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ভক্তদের মধ্যে আরও ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দর্শক মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন। মেসির সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে মাঠের মধ্যেই ফেলা হয়। ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর যত পোস্টার ছিল সব ছিঁড়ে ফেলা হয়। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেসির চারপাশে শুধু নেতা আর অভিনেতারাই ছিল। তাহলে আমাদের কেন ডাকা হলো? আমরা ১২ হাজার টাকায় টিকিট কেটেছি, কিন্তু তার মুখটাও দেখতে পারিনি।’

স্থানীয় সময় সকাল ১১.৩০ মিনিটে মেসির গাড়ি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে। তার সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত ছিলেন মেসি। তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা তাকে ঘিরে ধরেন। ফলে গ্যালারি থেকে সরাসরি মেসিকে দেখাই যায়নি! এক সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরপরই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।