পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার মৌসুম। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি।
উপজেলার লেবুখালী, মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার ব্যস্ততা। অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে ধান কাটলেও কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকটে মেশিনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন পরিবারের সদস্যরাও।
লেবুখালী ইউনিয়নের কৃষক আবদুস সালাম বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। খরচ কিছুটা বেশি হলেও ধানের দাম ঠিক থাকলে লোকসান হবে না। একই কথা জানান আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের কৃষক সৈয়দ জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, বৃষ্টি কম হওয়ায় ধান নষ্ট হয়নি। আল্লাহ ভরসা, ভালোই হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে দুমকিতে ৬৬০১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ হয়েছে। রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সময়মতো ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ধান কাটার এই ব্যস্ততার মধ্যেই গ্রামে গ্রামে ফিরেছে নবান্ন উৎসবের আমেজ। নতুন ধান ঘরে ওঠায় কৃষক পরিবারগুলোতে আনন্দ ও উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গ্রামজুড়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।