ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির বল করার রেকর্ডটি এখনো পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতারের দখলে। ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতির এক বল করেন, যা ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নথিভুক্ত সর্বোচ্চ গতি। ওই ওভারের শেষ বলটি স্কয়ার লেগের দিকে কোনোমতে ঠেলে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটার নিক নাইট। এর আগে ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল শোয়েবেরই করা ১৬১.০ কিলোমিটার গতির বল ছিল রেকর্ড।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শোয়েব ওই গতির রেকর্ড ভাঙার প্রসঙ্গ উঠতেই বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন আহমেদের নাম উল্লেখ করেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। 'তাসকিন আমার সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড ভেঙে দিক', তাঁর এই মন্তব্যে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়।
নতুন প্রজন্মের অনেক পেসারই আদর্শ হিসেবে দেখেন শোয়েব আখতারকে। বাংলাদেশ দলের তাসকিন আহমেদ কিংবা ঢাকা ক্যাপিটালসের স্থানীয় পেসার মারুফ মৃধার মতো তরুণদের শেখার আছে অনেক কিছু এই পাকিস্তানি গতিতারকার কাছ থেকে। তরুণ পেসারদের উদ্দেশে শোয়েব বলেন, 'নিজেকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রানআপের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে। নিজের স্টাইল থাকবে—লম্বা চুল, শার্ট, গোঁফ—সবই হতে পারে। নিজেকে উপভোগ করো এবং মানুষকে দেখিয়ে দাও তুমি কী পারো। তবে লক্ষ্য হবে কাউকে আঘাত না করে উইকেট নেওয়া।'
শোয়েবের মতে নাহিদ রানা বিশ্বের সেরাদের একজন হয়ে উঠতে পারবেন, যদি তিনি তাঁর (নাহিদ রানা) ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন। পাকিস্তানি গতিতারকা আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নাহিদ রানার জন্য আমার পরামর্শ হলো, মাংসপেশি ঠিক রাখতে অনুশীলনের স্তর উঁচু রাখতে হবে। ফাস্ট বোলিং মানেই শরীরের ওপর চাপ নেওয়া। শরীর তখনই চাপ নিতে পারবে, যদি আপনার পেশি থাকে। পেশি, একটু লিকলিকে পেশি, উচ্চ স্তরের প্রশিক্ষণ, গতি ধরে রাখা এবং মনোভাব ঠিক রাখা। সে এগুলো ঠিক রাখতে পারলে বিশ্বের অন্যতম সেরা হতে পারবে এবং অনেক দূর যেতে পারবে।’ শোয়েব এরপর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি তাসকিনের মধ্যে এগুলো দেখেছি। তাকে তীক্ষ্ণ ও মনোযোগী লাগছে। নাহিদ রানাও তা–ই। সে যদি খুব ভালো অনুশীলনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, ভালো অনুশীলনের পরামর্শ আমি তাকে দেব, যদিও কখনো তাকে (নাহিদ) দেখিনি। প্রশিক্ষণের কৌশল এবং গোপনীয়তাগুলো কী কী, সেগুলো তাকে বলা নিশ্চিত করব আমি। ফাস্ট বোলার হিসেবে আমার মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা আপনার মধ্যে থাকতে হবে।’
ঢাকা ক্যাপিটালসের পরামর্শক হিসেবে এবারের বিপিএলে কাজ করবেন শোয়েব আখতার। যদি বিসিবি কখনো শোয়েব আখতারকে প্রস্তাব দেয়, তাহলে কি কাজ করবেন- এমন প্রশ্ন ছিল পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকার কাছে। শোয়েব বলেন, ‘না। যখন ফাস্ট বোলিংয়ের প্রসঙ্গ আসে, তখন আমার মতে অন্যতম সেরা কোচ পেয়েছেন। শন টেইটের পর আমাকে আপনার দরকার নেই। আমার মতে তার সঙ্গে আপনাদের কাজ করা উচিত। সে অন্যতম দারুণ এক ক্রিকেটার। আমার দেখা অন্যতম সৎ একজন লোক।’
শোয়েবের নিজের সময় এবং বর্তমান প্রজন্মের পেস বোলিংয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কিংবদন্তির ভাষ্য, ‘এ প্রজন্মকে দোষ দিতে চাই না। কারণ, তারা টি-টোয়েন্টির যুগে জন্ম নিয়েছে। তাদের প্রচুর ভ্রমণ করতে হয়। ম্যাচ খেলে পরদিন সকালে আবারও খেলতে হয়। তাই সবচেয়ে দ্রুততম ডেলিভারিটি করতে তাদের শারীরিকভাবে পুনরায় ফিট হয়ে ওঠার সময় নেই। কিন্তু ছয় মাস বিশ্রাম নিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারলে দ্রুততম বোলিং করা সম্ভব। তাই এই প্রজন্মের বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু এটাও বিশ্বাস করি, যে পরিমাণ আগ্রাসন আমরা দেখতে চাই, সেটা (বিশ্ব ক্রিকেটে) অনুপস্থিত।’