কিলার হিটলিস্টে হাসনাত-সাদিকসহ অনেকেই টার্গেটে

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার হিটলিস্ট। এই তালিকায় আরো অন্তত ১০ জনের নাম রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হিটলিস্টের শীর্ষে ছিলেন ওসমান হাদি। পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের আরেক নায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বেশ কয়েকজনকে। এদের অধিকাংশই সম্প্রতি ডাকসু, চাকসু ও রাকসুর মতো বিশ্ববিদ্যালয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত করতে ভারতে অবস্থানরত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি গোষ্ঠী গণ-অভ্যুত্থানের নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের টার্গেট করে হত্যার মিশন শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য নির্বাচন বানচাল করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে দেশে ফেরা। নিষিদ্ধ দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ফেসবুকে এক পোস্টে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জানান, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গত কয়েকমাসে অন্তত ৮০ জন সুব্রত বাইনের মতো আততায়ীকে দেশের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করিয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড, কুষ্টিয়া মেহেরপুর অঞ্চলের চরমপন্থি গ্রুপ এক হয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতা, এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।

এদিকে, হাদির ওপর গুলি চালানোর সন্দেহে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ খান) ও সাবেক যুবলীগ নেতা আলমগীর শেখের জিজ্ঞাসাবাদে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, মোস্ট ওয়ান্টেড ফয়সাল করিম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানকের সঙ্গে দেখা করেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখ গত অক্টোবর থেকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে। তারা ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সাভারের একটি রিসোর্টে অবস্থান করেন এবং ভারতে অবস্থিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার রূপরেখা ঠিক করেন। ১২ ডিসেম্বর সকালে মতিঝিলে হাদির সঙ্গে দেখা করার পর বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে তারা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদকে। এরই মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ ও বান্ধবী মারিয়া আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রেখে তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। মারিয়ার কাছ থেকে ফয়সাল ও আলমগীরের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে হামলাকারীদের দেশত্যাগে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নালের দুই সহযোগী বেঞ্জামিন চিরান (৪৫) ও সীশল (২৮) কে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তারা সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করতেন বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মামলার তদন্ত ডিবি হাতে নিয়েছে। আসামিরা আগাম পরিকল্পনা করে নির্বাচনী অস্থিরতা তৈরি করতে এই হামলা চালিয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।