শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ও প্রভাবশালী রাজনীতিক অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশটির ঘুষ ও দুর্নীতি তদন্ত কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং শ্রীলঙ্কায় ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হবে।
১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের সেই অধিনায়ক ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং এক সময় পেট্রোলিয়াম সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিত্বকালের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরেই এবার তিনি গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
সোমবার কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘুষ কমিশনের পক্ষে সহকারী পরিচালক (আইন) অনুশা সম্মন্থাপ্পেরুমা জানান, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে সিলোন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিপিসি) জ্বালানি ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত তিনটি দীর্ঘমেয়াদি টেন্ডার বাতিল করা হয়। পরে উচ্চমূল্যে স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে করপোরেশনের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় সিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান ধাম্মিকা রানাতুঙ্গাকে প্রথম সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি অর্জুনা রানাতুঙ্গার বড় ভাই। অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বকালীন সময়ে সরকারি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে দুই ভাইয়ের সিদ্ধান্তের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ধাম্মিকা রানাতুঙ্গাকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে শুনানি শেষে আদালত তাকে দুইজন জামিনদারের বিপরীতে এক মিলিয়ন রুপি করে জামানতে মুক্তি দেন এবং তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অপরদিকে, অর্জুনা রানাতুঙ্গা বিদেশে অবস্থান করায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, তিনি দেশে ফিরলেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় মামলাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনের একটি পরিচিত মুখ এখন দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ আইনি পরিণতি।