ফেলানী অ্যাভিনিউয়ের নামফলক উন্মোচন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটির নতুন নামকৃত ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’-এর নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ নামফলক উন্মোচন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

নামফলক উন্মোচন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের ১৮ কোটি মানুষ সীমান্ত হত্যা বন্ধ চায়। ফেলানীর প্রতি কী ধরনের নৃশংসতা হয়েছে, সেটি প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দিতে এ রাস্তা। এ সড়কের মাধ্যমে বিশ্ববিবেকের কাছে তুলে ধরছি, সীমান্ত হত্যার মতো জঘন্য পরিস্থিতি বাংলাদেশের সীমান্তে বিরাজ করছে। বর্তমান সরকার সব সীমান্ত হত্যা বন্ধ চায় বলে এ রাস্তা উদ্বোধন।’

এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘ফেলানীর নামে এ রাস্তা। মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে তৈরি হলো। বাংলাদেশ যে মাথা উঁচু করে সম্মান বজায় রাখতে পারে, তার প্রতীক এ রাস্তা। প্রতিবেশীসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে, নিজের সম্মান বজায় রেখে কথা বলব, সেটি স্মরণ করিয়ে দেবে এ সড়ক।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নতুন নামকরণ ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এটি ভারতীয় দূতাবাসের পাশের একটি সড়ক। সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মৃতিকে ধারণ করে সড়কটির এই নাম ঘোষণা করা হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ঘটে যায় হৃদয়বিদারক ফেলানী হত্যাকাণ্ড। ভারত থেকে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার পথে ১৫ বছরের এই কিশোরী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাঁটাতারে দীর্ঘ চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা ফেলানীর নিথর দেহ দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে।