তাসনিম জারা নিয়ম মানলেও অন্যরা মানছেন না!

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় নেমেছে প্রার্থীরা। এদিকে কমিশনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণার অংশ হিসেবে পোস্টার প্রকাশ্যে টাঙানো হচ্ছে কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। 

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তাসনিম জারার ফেসবুক স্ক্রিনশট

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে পোস্টার টাঙানো নিষিদ্ধ করেছে এবং আমি সেই নির্দেশনা মেনে কোনো পোস্টার ব্যবহার করিনি। পাশাপাশি তিনি একটি ছবি যোগ করে দেখিয়েছেন, তিতাস রোডের দেয়ালসহ খিলগাঁও, গোড়ান, সবুজবাগ ও মুগদা এলাকায় অন্যান্য প্রার্থীদের পোস্টারে দেয়াল ছেয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার সদিচ্ছা তিনি দেখছেন না বলেও পোস্টে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে- সৎ প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠ থেকে আড়াল করে দেওয়ার একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। আইন মেনে চলার কারণে এলাকার দেয়ালে তার কোনো উপস্থিতি নেই, অথচ যারা আইন মানছে না, তাদের ছবি সবার চোখের সামনে।

তার অভিযোগ, পোস্টার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। নতুন দল হিসাবে এনসিপির প্রতীক ‘শাপলা কলি’ ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন চোখের সামনে পোস্টারের এই ‘বেআইনি মহোৎসব’ চললেও কমিশনের নীরবতা উদ্বেগজনক। নির্বাচনের দিন সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলেও কমিশন তা উপেক্ষা করতে পারে।

পোস্টে তিনি ওসমান হাদীর ওপর গুলির ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওসমান হাদীর ওপর গুলির ঘটনাকে কমিশন যেভাবে   ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ বলে আখ্যায়িত করেছে, তা আমাদের শঙ্কিত করে। আজ চোখের সামনে পোস্টারের এই বেআইনি মহোৎসব দেখেও তারা নিশ্চুপ। এই ধারাবাহিকতা দেখে আশঙ্কা জাগাটাই স্বাভাবিক যে, নির্বাচনের দিন যদি সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শন করা হয়, তবে কমিশন হয়তো সেদিকেও নজর না দিয়ে বলবে,  “এসব তো বাংলাদেশে হয়েই আসছে।”