'অবৈধ' খেলোয়াড় খেলানোর অভিযোগ, প্রমাণ মিললে বিশ্বকাপ থেকে বাদ কঙ্গো

মাঠের লড়াই শেষ হলেও আইনি লড়াইয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া নাইজেরিয়া। আফ্রিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে ‘অযোগ্য’ খেলোয়াড় মাঠে নামানোর অভিযোগে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।

গত মাসে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান বাছাই প্লে-অফে টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ডিআর কঙ্গো ইন্টার-কনফেডারেশন প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে। সেখানে মার্চে ছয় দলের লড়াই থেকে দুটি টিকিট নির্ধারিত হবে ৪৮ দলীয় বিশ্বকাপের জন্য, যা হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়।

এনএফএফের অভিযোগ, কঙ্গোর হয়ে খেলা একাধিক দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই ছাড়পত্র পেয়েছেন। এনএফএফের সাধারণ সম্পাদক  মোহাম্মদ সানুসি বলেন,“কঙ্গোর আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়। অথচ তাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছে যাদের ইউরোপীয়—বিশেষ করে ফরাসি ও ডাচ—পাসপোর্ট আছে।”

সানুসির দাবি, ফিফা নিজেদের বিধিমালা অনুযায়ী পাসপোর্টের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দিলেও কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ আইন মানা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা ফিফার দায়িত্ব নয়। “আমাদের বক্তব্য হলো, ফিফাকে ভুল তথ্য দিয়ে এসব খেলোয়াড়ের ছাড়পত্র আদায় করা হয়েছে। এটি প্রতারণার শামিল,” যোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে *কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “মাঠে জিততে না পারলে পেছনের দরজা দিয়ে জয়ের চেষ্টা করবেন না। বিশ্বকাপ খেলতে হয় মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে—আইনজীবীদের কৌশলে নয়।”

ফিফা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তাদের ফিফার বিধি অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের সুযোগ পান এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হয়। তবে একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়ে ফিফার সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এখানেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে—নাইজেরিয়া জোর দিচ্ছে কঙ্গোর নিজস্ব জাতীয় আইনের ওপর, আর কঙ্গো ভরসা রাখছে ফিফার বিধিমালায়।

ফিফার তদন্ত শেষে তিনটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে কঙ্গোর জয় বহাল থাকবে। প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ধরা পড়লে জরিমানা বা সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে, তবে ফল অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আর গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে ম্যাচ বাতিল করে নাইজেরিয়াকে জয়ী ঘোষণা করা হতে পারে—যা তাদের বিশ্বকাপের দৌড়ে ফেরাতে পারে।