সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউজ এইজ সম্পাদক নূরল কবীর হেনস্তার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের থামাতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেগুলোয় দেখা যায়, তাকে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা দিচ্ছেন এক যুবক। ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে গালিও দেওয়া হয়। তাকে ধাক্কা দেওয়ার সময় একজনকে তার চুল টানতেও দেখা যায়।
রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পড়ে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ মিছিল নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে সামনে উপস্থিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তারা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী নানা স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করে। কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগ হয়।
একই সময়ে ডেইলি স্টার ভবনেও ভাঙচুর হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সংবাদপত্রটির ৩০/৩৫ জন সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনের ছাদে আশ্রয় নেয়। ভবনের নিচে আগুন থাকায় দীর্ঘসময় ছাদে অবস্থান করতে হয় তাদের। খবর পেয়ে সেখানে যান নূরুল কবীর এবং ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশের বাধার মুখে পড়েন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিভিয়ে টিটিএল (টার্ন টারবো লেডার) ব্যবহার করে ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে। অবশ্য দুটি স্থানেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের উদ্যোগে তাকে গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টা দিকে ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
এর আগে বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সেই ঘোষণার পর থেকে তার জীবন নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়তে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দোয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।