ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনার পর থেকে রাজধানীজুড়ে অনেকটাই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বারিধারা কূটনৈতিক পাড়াসহ ঢাকার বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, বারিধারা, মহাখালীতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের আশপাশের এলাকায় বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের গাড়ি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো এবং ধানমন্ডি এলাকায় ছায়ানট ভবনে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নগরীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ছায়ানট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি দেখা গেলেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কিংবা শাহবাগ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি সেভাবে চোখে পড়েনি।
ছায়ানটের সামনে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান বলেন, রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সকাল থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একদল বিক্ষোভকারী বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এসময় প্রতিষ্ঠান দুটির অনেক সংবাদকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। একই রাতে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায় একদল উত্তেজিত জনতা।