চবির শিক্ষক হতে আবেদন করেছেন প্রো ভিসি শামীম খানের মেয়ে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীম।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) তার নিয়োগ বোর্ড বসার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গেল ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনেন্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য সর্বমোট চারজনের নিয়োগের বিষয়ে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইনান্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৯ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। উপাচার্যের অফিস কক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ফাইনান্স বিভাগের চার প্রভাষক পদের বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করেন ৫১ জন প্রার্থী। এই চার পদের মধ্যে একটিতে সহকারী অধ্যাপকের বিপরীতে এবং অন্য একটিতে সহযোগী অধ্যাপকদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইন্যান্স বিভাগের জন্য আবেদন করা ৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীমের নাম রয়েছে। প্রার্থীদের তালিকায় ৪৩ নম্বরে মাহিরা শামীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধির ৫নং ধারা ১নং উপধারা অনুযায়ী কোন বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ দিতে হলে একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করতে হবে। পদাধিকার বলে এই বোর্ডের সভাপতি হবেন উপাচার্য। সিন্ডিকেট মনোনীত দুজন সদস্য দুই বছর মেয়াদে বোর্ড সদস্য হিসেবে থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি বোর্ডে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বোর্ডে থাকবেন। এসকল সদস্যকে নিয়ে বোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ফাইনান্স বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস.এম নসরুল কদির। এছাড়া নিয়োগ বোর্ডে রয়েছেন ফাইনান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিম।

নিজে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় উপ-উপাচার্য শামীম খানের মেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন। এই নিয়ে জানতে চেয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, ফাইন্যান্স বিভাগের নিয়োগের সঙ্গে আমি কোনভাবেই সংযুক্ত নই। আমি নিয়োগ বোর্ডের সদস্যই নই। নিয়োগ বোর্ড কিভাবে হচ্ছে আমি কিছুই জানিনা। আমার মেয়ে সেখানে আবেদন করেছে এটুকুই মাত্র আর কিছু নয়। তাছাড়া এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভালো বলতে পারবেন, কেননা তিনি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি।

জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, আমরা কয়েক ধাপে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছি। এখানে স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোন সুযোগ নেই। আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে কিনা এজন্য আমরা সবাইকে আহবান করেছি যে আপনারা এসে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখে যান। কিন্তু কেউই আমাদের কথা কর্ণপাত করেননি।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে লিখিত পরীক্ষা নিই। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীকে ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। সেখানে উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই তিন পরীক্ষায় যারা ভালো ফলাফল করে তাদের মধ্যে সেরা প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি নিরপেক্ষতার সাথে শিক্ষকদের নিয়োগ দিচ্ছেন। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল ভাইবার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা কোন যথাযথ প্রক্রিয়া না। কেবল ভাইবার মাধ্যমে নিয়োগ দিলে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ আছে।