স্বামী-স্ত্রীর বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যু

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনার পর এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম সিফাত হাসান বাবু (২৫)। তিনি মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মো. হাতেম আলী এবং মাতা মোসা লিপি আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবু ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বাবুর স্ত্রী সাথী আক্তার তার বাবার বাড়িতে ফোন করে অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করছে।

এ খবর পেয়ে সাথী আক্তারের পিতা আব্দুল মালেক তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে বাবুর বাড়িতে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হালকা মারামারির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা বাবুকে তার বাড়ি থেকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার দূরে একটি ক্ষেতের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. হাতেম আলী বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।