নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে একই দাগের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের বড় চরকালিয়া (শাখারি পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মিসেস রুজিনা আক্তার তার বোনদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের আশঙ্কায় চাঁদপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। 

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার সহোদর ভাই আমিনুল ইসলাম ও রুহুল আমিনসহ প্রতিপক্ষরা বিএস খতিয়ানভুক্ত ৩৮৯০ দাগের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ ও দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, পিতা মৃত নুরু মিয়া মোল্লার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আপোষ বণ্টনের মাধ্যমে সবাই ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা ওই জমি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি শুনানি শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় নালিশী জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মতলব উত্তর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), মতলব উত্তরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জমির দখল সংক্রান্ত বিষয়ে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে একই দাগভুক্ত জমির পুকুরে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ পক্ষ থেকেও আদালতে পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করা হয় এবং আদালত সেখানেও আদেশ জারি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশের কপি মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নোটিশ আকারে প্রদান করলেও সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমিনুল ইসলাম ও রুহুল আমিন নালিশী সম্পত্তির ওপর নির্মিত রাইস মিল পুনরায় চালু করেন। একই সঙ্গে পুকুরে বালু ভরাট করে নির্মিত একচালা টিনের ঘর খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে মিসেস রুজিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা চার ভাই ও ছয় বোন। বাবা-মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আমরা বোনেরা বাপের ওয়ারিশ সম্পত্তির অংশ চাইলে ভাইয়েরা তা না দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমাদের না জানিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা যাতে ন্যায্য সম্পত্তি না পাই, সে জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বোনেরা মিলে আমাদের অংশের জমিতে পুকুর ভরাট করে একটি টিনের চালা নির্মাণ করি। সেটি তারা খুলে নিয়ে যায় এবং পরে ভাঙাচোরা অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। আদালত থেকে ৩৮৯০ দাগের জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশ নোটিশ দিয়ে গেলেও তা অমান্য করে রাইস মিল চালু রাখা হয়েছে। এখনো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, ‘যে জায়গায় রাইস মিল রয়েছে, সেটি আমি আমার ভাইদের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। ওই জায়গায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলেই মিলটি চালু রেখেছি।’

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আদালতের আদেশ অনুযায়ী নোটিশ প্রদান করেছি। বিষয়টি পুনরায় তদন্তের জন্য ওসি (তদন্ত) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’