পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন এলাকায় জোরপূর্বক ছেলেদের তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তর, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে লতা হিজড়া নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ এক যুগ ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি মহিপুর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিয়েবাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর থানা সংলগ্ন ওপদা বেড়িবাঁধের বাইরে লতা হিজড়ার নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি একসঙ্গে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীস্বভাবের কিছু যুবককে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়ানো হয় এবং পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত করে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিতে ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগকারীরা জানান, চাঁদাবাজি থেকে আদায়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ লতা হিজড়া নিজে রাখতেন। এসব অর্থের মাধ্যমে তিনি অর্ধকোটি টাকার বেশি মূল্যের জমি ক্রয় এবং কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে বসতঘর নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নুরজামাল নামের এক যুবককে মারধরের ঘটনায় এসব অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। ভুক্তভোগী নুরজামালের দাবি, অর্থের লোভ দেখিয়ে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তার নাম রাখা হয় ‘মেঘলা’। দীর্ঘদিন তাকে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা তুলতে বাধ্য করা হয়। উত্তোলিত টাকার ৬০ শতাংশ লতা হিজড়া নিতেন এবং বাকি ৪০ শতাংশ অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হতো। দল ছাড়তে চাইলে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে তারা মহিপুর থানার সামনে লতা হিজড়ার বাসায় গিয়ে নুরজামালকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় লতা হিজড়ার লোকজন নুরজামালকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় দোকানদার মজনু বলেন, ‘১৭ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ করে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় এক ব্যক্তি দৌঁড়ে এসে আমার দোকানে আশ্রয় নেয়। কিছুক্ষণ পর লতা হিজড়া ও তার লোকজন এসে তাকে দোকান থেকে নামিয়ে দিতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এলাকাবাসী তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও স্থায়ী প্রতিকার চাই।’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, মহিপুর থানাধীন ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লতা হিজড়া। তিনি বলেন, ‘আমার দলের কেউ পুরুষ নয়, সবাই তৃতীয় লিঙ্গের। তবে নুরজামাল নামের ওই যুবকের সঙ্গে আমার লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’ সম্পদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ জোরপূর্বক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’