ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত শুক্রবার এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ‘মব অ্যাটাক’ বা ভিড়ের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলির মতে, কিছু রাজনৈতিক পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। যার ফলে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী, এমনকি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, এমন এক সহিংস পরিবেশের মধ্যেই সম্প্রতি নির্বাচনী প্রার্থী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় ব্যাপক আলোচনায় আসেন—যে আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
সংস্থাটি আরও বলেছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের পর বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষার এক কঠিন পর্ব অতিক্রম করছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, তবে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা নাগরিক পরিসরকে সংকুচিত করছে এবং নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিবৃতির শেষে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, যুব নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে এবং এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।