রাস্তার পাশে সীমানা প্রাচীরে ধস, ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভার মুকুন্দি এলাকায় অবস্থিত আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই দেয়ালটি আপাতত বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। দেয়ালের পাশ দিয়েই ব্যস্ত সড়ক থাকায় প্রতিদিন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করা হলে যে কোনো সময় সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

জানা গেছে, আড়াইহাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দি এলাকায় অবস্থিত আড়াইহাজার ইমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসাটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে এমপিওভুক্ত হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে মাদ্রাসার দক্ষিণ অংশ দিয়ে মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গার ওপর একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিআরডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় দিঘিরপাড় চৌরাস্তা থেকে মাদ্রাসা হয়ে মুকুন্দি পর্যন্ত সড়কটি সিসি ঢালাই করা হয়।

এই সড়কটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আড়াইহাজার জোনাল অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাতায়াত করা হয়। যানজট এড়াতে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, পল্লী বিদ্যুতের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

সড়কটি ব্যস্ত হয়ে ওঠায় মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৪ সালে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে। এর মধ্যে প্রায় ১২০ মিটার প্রাচীর মাদ্রাসার দক্ষিণ অংশে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অবস্থিত।

প্রায় ছয় মাস আগে আড়াইহাজার পৌরসভা সড়কের এক পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও পৌরসভার ঠিকাদার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করায় প্রাচীরটি হেলে পড়ে। এতে দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দেয়। এ ছাড়া মাদ্রাসার প্রবেশ গেটে ড্রেন নির্মাণের সময় ধস দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি ভেঙে ফেলতে হয়।

বর্তমানে হেলে পড়া সীমানা প্রাচীরটি এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধসের হাত থেকে রক্ষার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাঁশের খুঁটি দিয়ে দেয়ালটি ঠেকিয়ে রেখেছে।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, দেয়ালটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া জান্নাত বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই রাস্তা পার হয়ে মাদ্রাসায় যাই। দ্রুত দেয়ালটি মেরামত করা প্রয়োজন।’

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দেয়ালটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ এই দেয়ালের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

আড়াইহাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. বশির উল্লাহ জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। শিক্ষার্থী ও শিশুরাও দেয়ালের পাশে খেলাধুলা করে। যে কোনো সময় দেয়ালটি ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার নিজস্ব তহবিলে টাকা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সীমানা প্রাচীর সংস্কারের জন্য আড়াইহাজার পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছে। তারা গেট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাচীরের জন্যও বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে।’

এ বিষয়ে আড়াইহাজার পৌরসভার প্রকৌশলী সাফায়েত সাদী জানান, মাদ্রাসার প্রবেশ গেট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়া গেলে সীমানা প্রাচীরের সংস্কারও পৌরসভা থেকে করা হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপপ্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে মাদ্রাসার গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরটি শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ থেকে দ্রুত সংস্কার করা হবে। আশা করছি, সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’