দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

জীবিকার উপকরণ পেলেন পিঠা বিক্রেতা রেহেনা

দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জীবিকার উপকরণ সহায়তা পেলেন অসহায় পিঠা বিক্রেতা রেহেনা বেগম। ‘কর্ম-অক্ষম স্বামী নিয়ে স্ত্রীর সংগ্রামী জীবন’ শিরোনামে গত ১৪ ডিসেম্বর দেশ রূপান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর এই সহায়তা এগিয়ে আসে।

স্থানীয় তরুণ সমাজসেবী সুমন রাফি রেহেনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে তার পিঠা ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ কিনে দেন। এসব উপকরণের মধ্যে রয়েছে আতপ চাল ২০ কেজি, সিদ্ধ চাল ২০ কেজি, খেজুর গুড় ১০ কেজি, জ্বালানি কাঠ ৭ মন, শুকনো মরিচ ১ কেজি, কালো জিরা ১ কেজি, সরিষা ১ কেজি এবং ক্রেতাদের বসার জন্য দুটি বেঞ্চ।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চালিনগর গ্রামে অবস্থিত রেহেনা বেগমের অস্থায়ী পিঠার দোকানে এসব উপকরণ পৌঁছে দেন তিনি।

এ সময় সুমন রাফি বলেন, ‘দেশ রূপান্তর পত্রিকায় রেহেনা বেগমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে তার অসহায় অবস্থার কথা জানতে পারি। তার জীবিকা আরও ভালোভাবে নির্বাহের জন্য সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিই। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে এসব উপকরণ দিয়েছি। ভবিষ্যতে তার জন্য একটি স্থায়ী দোকানঘর করে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ৪০ বছর বয়সী রেহেনা বেগম তার কর্ম-অক্ষম স্বামী ও তের বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। ভ্যানচালক স্বামী আত্তাব শেখ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকায় তিন সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন রেহেনার ওপর।

জীবিকার তাগিদে তিনি রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালান। বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চালিনগর মাদরাসা সংলগ্ন চৌরাস্তার এক কোণে প্রতিদিন বিকেলে পিঠা বিক্রি করেন তিনি।

রেহেনা বেগম জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে স্বামী দেড় শতক জমি পেলেও তা পানির মধ্যে থাকায় বসবাসের অনুপযোগী। বর্তমানে তিনি বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুল হক মন্টুর বাড়ির পাশে একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করছেন। শীত মৌসুমে গ্রামের একটি দোকানের সামনে বসে পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ টাকা লাভ হয়, যা দিয়েই কোনোরকমে পরিবারের খরচ চালান।