ছয় পা নিয়ে জন্ম বাছুরের, লাখ টাকায়ও বিক্রি না করার ঘোষণা

যশোরের ঝিকরগাছায় এক কৃষকের গোয়ালে ছয় পা বিশিষ্ট একটি গরুর বাছুর জন্ম নিয়েছে। বাছুরটির দাম ইতোমধ্যে লাখ টাকা বললেও বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছেন গৃহকর্ত্রী। বিরল এই বাছুরটিকে এক নজর দেখতে ওই কৃষকের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত উৎসুক জনতা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর উপজেলার বাঁকড়া মাঝেরপাড়ায় কৃষক আইয়ুব আলীর বাড়িতে পালন করা একটি গাভি ছয় পা বিশিষ্ট এই বাছুরটির জন্ম দেয়। জন্মের পর দেখা যায়, বাছুরটির পেছনের অংশে চারটি পা। সামনের দুটি পায়ের একটি স্বাভাবিক হলেও বাঁ পা অস্বাভাবিক। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পা অস্বাভাবিক হওয়ায় বাছুরটি ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। এমনকি মায়ের দুধও নিজে নিজে খেতে পারছে না। অধিকাংশ সময়ে শুয়েই থাকছে বাছুরটি। 

শংকরপুরের নায়ড়া গ্রামের মো. রাকিব হোসেন বলেন, গরুর বাছুরের ছয়টি পা হয়েছে এমন খবর শুনে আমরা দেখতে এসেছি। এ রকম বাছুর আমি কোনোদিন দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম। তিনি বলেন, অনেক দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন বাছুরটিকে দেখতে আসছে। বিষয়টিকে বিস্ময়কর এবং প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিদর্শন বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

বাঁকড়ার কুলসুম বেগম বলেন, এ রকম বাছুর জন্মের কথা শুনে অনেক লোকজন এই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। আমাদের পাশের গ্রামে বাড়ি আমরাও দেখতে এসেছি। আশ্চর্য ঘটনা। এর আগে কখনও এমনটা দেখিনি। 

কৃষক আইয়ুব আলীর স্ত্রী রাহিমা খাতুন বলেন, ছয় পা নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও বাছুরটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। খাওয়া-দাওয়াও করছে ভালো। অস্বাভাবিক ছয়টি পা নিয়ে দাঁড়াতে না পারার কারণে নিজের মায়ের দুধ টেনে খেতে পারছে না। ফলে আমাকে ফিডারে করে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বাছুরটিকে কিনতে ইতোমধ্যে অনেকেই ইচ্ছে পোষণ করেছে৷ কেউ ৫০ হাজার আবার কেউ এক লাখ টাকা দাম বলছে। তবে আমরা বাছুরটি বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোনো পরীক্ষায় হয়তো আমাকে এটি উপহার দিয়েছেন। তাই আমি বিক্রি করব না। লালন-পালন করব।

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুমা আখতার বলেন, এটি সাধারণত জন্মগত ত্রুটি। সমাজে এটি অলৌকিক ঘটনা হিসেবেও বিবেচিত হয়।

তিনি বলেন, সাধারণত ভ্রূণ বিকাশের সময় কোষ বিভাজনে ত্রুটি থাকলে বা দুটি ভ্রূণ একত্রে মিশে গেলে এমন অতিরিক্ত অঙ্গ নিয়ে বাছুরের জন্ম হতে পারে। এই অতিরিক্ত পা বাছুরটির জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ নয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এগুলো অপসারণ সম্ভব।