থাই-কম্বোডিয়া সংঘর্ষ অবসানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধের লক্ষ্যে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ায় বৈঠকে বসছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকরা। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৪০ জন নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় দশ লাখ মানুষ।

কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠেয় এই আলোচনার লক্ষ্য হলো জুলাই মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করা। মালয়েশিয়া, বর্তমান আসিয়ান চেয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় ওই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছিল। আট ডিসেম্বর নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর এটিই হবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। নতুন সহিংসতার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে।

প্রায় আটশ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাবর্ষণ হয়েছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে। শত বছরের বেশি পুরোনো এই সীমান্ত বিরোধের সূত্রপাত ফরাসি উপনিবেশ আমলে নির্ধারিত সীমারেখা থেকে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকটি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করাই তাদের মূল দায়িত্ব। কম্বোডিয়া জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, আলোচনার আগে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে একটি বাস্তব ও টেকসই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রয়োজন।

এদিকে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নতুন একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি চীন জানিয়েছে, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তারা গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।