এল কাবির চিলিয়ান গোলে জয়ে নেশন্স কাপ শুরু মরক্কোর

স্বাগতিক হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ২০২৫ শুরু করল জয়ের মাধ্যমে মরক্কো। রাবাতে দর্শকে টইটুম্বুর প্রিন্স মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে কমোরোসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলাস লায়ন্সরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাহিম দিয়াজ ও আয়ুব এল কাবির দুটি গোলেই আসে এই জয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকল মরক্কো।

প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি মরক্কো। বিরতির ১০ মিনিট পর নুসাইর মাজরাউইয়ের নিখুঁত চিপ পাসে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার ১২ গজ দূর থেকে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন।

ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে দর্শকদের হতবাক করে দেন আয়ুব এল কাবি। দুর্দান্ত এক ওভারহেড কিকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন অলিম্পিয়াকোসের এই স্ট্রাইকার। গোলটি স্কটল্যান্ড মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনের সাম্প্রতিক আইকনিক গোলের সঙ্গে তুলনা টেনেছে ইউরোপীয় গণমাধ্যম।

গোল করলেও ম্যাচজুড়ে বিতর্কে ছিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। প্রথমার্ধের শুরুতেই একটি বিতর্কিত পেনাল্টি আদায় করেন তিনি, যদিও সেই শট কমরসের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। বিরতির আগে আবারও পেনাল্টির আবেদন করলেও এবার হ্যান্ডবলের দায়ে ফাউল দেন দিয়াজ।

গোল করলেও ম্যাচজুড়ে বিতর্কে ছিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। ছবি-এক্স

ফ্রি-কিকে খুব একটা কার্যকর না হলেও খোলা খেলায় ছিলেন ভীষণ বিপজ্জনক। দুই উইং ও মাঝমাঠে ঘুরে বেড়িয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণে বারবার ফাঁক তৈরি করেন। স্কটল্যান্ডের জন্য স্পষ্ট বার্তা—দিয়াজকে বেশি জায়গা দিলে গোলের হুমকি, আবার খুব কাছে গেলে পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের ঝুঁকি।

ওয়ালিদ রেগরাগির দল ৪-৩-৩ ফরমেশনে দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। উইং থেকে উইংয়ে দ্রুত বল বদল, দ্রুত সেট-পিস—সব মিলিয়ে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে মরক্কো।

তবে ম্যাচটি দেখিয়েছে, রক্ষণে তারা পুরোপুরি অজেয় নয়। প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক কমোরোস মরক্কোর আক্রমণ ঠেকিয়ে রাখে। কাউন্টার অ্যাটাকে কয়েকবার বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। স্ট্রাইকার রাফিকি সাইদ একবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও ইয়াসিন বোনুর পায়ে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

এই ম্যাচে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে শুরুর একাদশে না রেখেও জয় পেয়েছে মরক্কো। পিএসজিতে খেলার সময় চোট পাওয়া হাকিমি বেঞ্চে ছিলেন। বদলি এল কাবির গোলই প্রমাণ করেছে, দলে বিকল্পের অভাব নেই।

তবে সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন। গ্রুপ ‘এ’-তে পরের ম্যাচে বক্সিং ডেতে মালির মুখোমুখি হবে মরক্কো, এরপর ২৯ ডিসেম্বর খেলবে জাম্বিয়ার বিপক্ষে।

সব মিলিয়ে ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবার আফ্রিকা সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। অন্তত ২১ বছর পর ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই