‘সময় এলে সিদ্ধান্ত নেব’—আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উইলিয়ামসন
নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেন উইলিয়ামসনের ভবিষ্যৎ এখনো চূড়ান্ত নয়। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার জানিয়েছেন, তিনি তার আন্তর্জাতিক খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন সিরিজ ধরে ধরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে। ৩৫ বছর বয়সী উইলিয়ামসন ইতোমধ্যেই টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বর্তমানে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) সঙ্গে একটি নমনীয় চুক্তির আওতায় রয়েছেন।
বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ড দলে খেলছেন উইলিয়ামসন। ম্যাচটি হচ্ছে তার নিজের মাঠ বে ওভালে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সংবাদ সম্মেলনে উইলিয়ামসন বলেন, “প্রায় প্রতিটি সিরিজ আলাদাভাবে ভাবতে হচ্ছে। এই সিরিজের পর দলের বাইরে থাকার একটা বড় সময় আসছে, তখন আরও আলোচনা হবে। সময় এলে তখনই সিদ্ধান্ত নেব। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।”
এর আগেও উইলিয়ামসন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার অগ্রাধিকার এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ছোট সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাটাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, “আমার অবস্থান আগের মতোই আছে। পরিবার এখন আমার সময় ও মনোযোগের বড় অংশ দাবি করে। একই সঙ্গে আমি এখনও ক্রিকেট উপভোগ করছি। যতদিন এই আনন্দটা থাকবে, ততদিন অবদান রাখার চেষ্টা করব। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বিষয়টা খুব সম্মান ও সহযোগিতার সঙ্গেই দেখছে।”
এই সিরিজ শেষ হলে উইলিয়ামসনের সামনে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার টি–টোয়েন্টি লিগ এসএ২০-এ ডারবানস সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলার দায়িত্ব। বক্সিং ডে থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি ভারতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজের সময়ের সঙ্গেই চলবে। পাশাপাশি আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের সঙ্গে তিনি কৌশলগত পরামর্শকের ভূমিকায়ও যুক্ত।
আগামী বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ডের সামনে রয়েছে বড় টেস্ট চ্যালেঞ্জ—২০২৬ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফর, পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি একমাত্র টেস্ট।
এ প্রসঙ্গে উইলিয়ামসন বলেন, “ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফর দারুণ চ্যালেঞ্জিং এবং লোভনীয়। এমন সফরগুলো সব সময়ই কঠিন। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে এখন যে গভীরতা রয়েছে, সেটাও চোখে পড়ার মতো। ইনজুরির মধ্যেও নতুনরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক উইলিয়ামসনের সংগ্রহে রয়েছে ১০৮ ম্যাচে ৯৪৬১ রান, গড় প্রায় ৫৫। সামনে সুযোগ পেলে তিনিই হতে পারেন প্রথম কিউই ব্যাটার, যিনি ১০ হাজার টেস্ট রান পূর্ণ করবেন। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন না বলেই জানালেন।
উইলিয়ামসনের ভাষায়, “সংখ্যা নিয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের জন্য কতটা অবদান রাখতে পারছি। রানগুলো ব্যক্তিগত নয়, এগুলো দলের। শেষ পর্যন্ত আপনি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন, সেটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।”
নিউজিল্যান্ড দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ ও উইলিয়ামসনের সাবেক সতীর্থ লুক রনচি অবশ্য মনে করেন, ১০ হাজার টেস্ট রান কিউই ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন হতে পারে, যদিও উইলিয়ামসনের কাছে সেটি খুব বড় বিষয় নয়।
রনচি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের একজন ব্যাটারের ১০ হাজার টেস্ট রান—এটা দারুণ একটা পরিসংখ্যান হতো। কিন্তু কেন উইলিয়ামসন যেভাবে ক্রিকেটটা দেখে, তার কাছে সংখ্যার চেয়ে অবদানটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে যদি সেখানে পৌঁছায়, ভালো। না পৌঁছালেও সেটাই শেষ কথা নয়।” ১০৮ টেস্টে ৯৪৬১ রান করেছেন উইলিয়ামসন এখন পর্যন্ত।