পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কালাচান পাড়া। ওই পাড়ায় প্রায় ২০০ বছর যাবত বসবাস করেন লাচাউ রাখাইন ও তার পরিবার। ওয়ারিশ, রেকর্ডীয় ও ক্রয় এই তিন সূত্রে এসএ খতিয়ানে প্রায় ৪০ একর জমি দখলে ছিল তাদের মধ্যে বিএস খতিয়ানে রেকর্ড হয়েছে ২২ একর। তবে স্বামীর চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় গত ১৫ বছরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও প্রভাবশালীরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অধিকাংশ জমি দখল করে নিয়েছেন।
দখলের এ তালিকায় বাদ যায়নি সরকারি কর্মকর্তারাও। চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমউল কায়েস ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ১৫৫ শতাংশ জমি দখল করার অভিযোগ এনে প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন লাচাউ রাখাইন।
শুধু তাই নয়, ওইদিনই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল ও বৃহস্পতিবার ডাক যোগের মাধ্যমে আইন উপদেষ্টা এবং সচিব বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
লাচাউ রাখাইনের স্বজনরা জানান, লাচাউয়ের স্বামী অংশাচিং রাখাইন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় (এফএও) কর্মকর্তা হিসেবে বহু বছর কর্মরত ছিলেন।
১৯৮৮ সালে তিনি চাকরিসূত্রে বদলি হন অস্ট্রেলিয়ায়। তারপর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন লাচাউ রাখাইন ও তার দুই ছেলে পরে সেখানকার নাগরিকত্বও পান। যদিও তারা প্রতিবছর কলাপাড়ার কালাচানপাড়ায় নিজেদের বাড়িতে আসতেন।
২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অংশাচিং অসুস্থ হয়ে পড়ায় সে বছর তাদের আর দেশে আসা সম্ভব হয়নি। দুই ছেলে সেখানকার সরকারি চাকরিতে থাকায় তারাও দেশে ফিরতে পারেননি এভাবেই কেটে যায় এক যুগ।
স্বজনদের অভিযোগ, এই সুযোগেই একটি চক্র লাচাউ পরিবারের জমি দখলের পরিকল্পনা করে। ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন জাল দলিল সৃষ্টি বিভিন্ন মানুষকে সোলে দিয়ে দেয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লাচাউ রাখাইন দেশে এসে জানতে পারেন তিনি ও তার দুই ছেলের নামে ভুয়া আমমোক্তারনামা ও নোটারি পাওয়ার তৈরি করে একাধিক নকল খতিয়ান, জাল দলিল এবং ভুয়া উত্তরাধিকার সনদ বানানো হয়েছে।
এসব নথির ভিত্তিতে তাদের জমি আত্মসাৎ করা হয়। এমনকি কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের নামে থাকা রেকর্ডও গোপনে বদলে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আর এসব দখলের নেতৃত্ব দিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বারেক মোল্লা তার ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লাসহ অনেক নেতা যারা ক্ষমতার পট পরিবর্তনে এখন পলাতক। এছাড়াও রয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস, তার ভাই হারুন মাওলানা ও বেয়াই ইউসুফ মুসল্লি, জামাল হোসেন ওরফে রাঙা জামাল, রুহুল আমীন ও মংমেয়াচিং গং।
বর্তমানে এই চক্রের বিভিন্ন সদস্যদের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতির মামলা দায়ের করায় তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে এবং আদালতে খাদেমুল কায়েসের ইন্ধনে প্রভাব খাঠাচ্ছে।
অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েসের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলাপাড়ার ৫৮ নং মৌজার ৬৩ নং বিএস খতিয়ানের ৪২০৪, ৫, ৬, ১১, ১২, ৭৪ ও ৪৪৪২, ৪৩৮৭ এবং ৪৬১০ নং দাগের ৮.০৬ একর ভূমির মালিক লাচাউ রাখাইন ও তার পরিবার। এর মধ্যে লাচাউ রাখাইন ২ একর ৪২ শতাংশ ও তার স্বামী অংশাচিং রাখাইন ২ একর ৪২ শতাংশ এবং তাদের বড় ছেলে উয়েনচিং রাখাইন ১ একর ৬১ শতাংশ ও ছোট ছেলে মাওয়েনচিং রাখাইন ১.৬১ জমির মালিক। তবে তারা অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন লাচাউ রাখাইন ও তার দুই ছেলের নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ও অস্ট্রোলিয়ান এম্বাসির সিল ও সিহ স্বাক্ষর জাল করে ২০০০ সালের ৮ আগস্ট তারিখের ৪৩০ নং নোটারি ক্ষমতা পত্র অংশাচিংয়ের নামে সৃষ্টি করেন এবং ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল অংশাচিংয়ের স্বাক্ষর জাল করে খাদেম উল কায়েসের স্ত্রী মোসা. আইরিন জেসমিন ও খাদেমুল কায়েসের বেয়াই ইউসুফ মুসল্লির নামে ১ একর ৫৫ শতাংশ জমি দলিল করে নেন। পরে ওই ক্ষমতা পত্রের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৬ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ম আদালতে লাচাউ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে বিচারক মামলাটি পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার গ্রহণ ও সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নোটারি আমমোক্তারনামার বৈধতা যাচাইয়ে সিআইডি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য চাইলে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. তানজিল কবির স্বাক্ষরিত রিপোর্টে জানায় ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘৪৩০ নং আমমোক্তারনামা’ সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
গত ২৭ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আদালতকে জানায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে এ ধরনের কোনো আমমোক্তারনামা ইস্যু করা হয়নি।
এছাড়া জমির দলিল অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৬৩ নম্বর খতিয়ানের ৪৩৭৪ দাগ থেকে ১ একর ৫৫ শতাংশ জমির দলিল নেওয়া হলেও ওই দাগে মোট জমির পরিমাণ মাত্র ১ একর ৪৪ শতাংশ, এবং এর প্রকৃত মালিক লাচাউ রাখাইন ও তার পরিবার। এছাড়া ৬২ খতিয়ান থেকেও খাদেমুল কায়েসের বড় ভাই হারুন মাওলানা ও তার ইউসুফ মুসল্লি অধিকাংশ জমি দখল করে।
এছাড়া ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি অংশাচি রাখাইনের পক্ষে ওই এলাকার মোসা. ফাতেমাকে আলিপুর মৌজার বিএস ১৬৭১ নং খতিয়ানের ৪২০৬ দাগে ৬ শতাংশ এবং বিএস ৬৩ নং খতিয়ানের ৪২০৫ ও ৪২০৬ দাগে ১২ শতাংশ জমি দেওয়ার নাম করে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে বায়নাপত্র ও হলফনামা করে ইউসুফ মুসল্লি। মোট মূল্য ৮ লাখ টাকা ধার্য করে তিনি এর মধ্যে ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু বিএস খতিয়ান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই জমির প্রকৃত মালিক লাচাউ রাখাইন। এমনকি ক্ষমতাপত্রের তারিখ ও স্বাক্ষর ফাঁকা রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি করার প্রমাণও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এদিকে আরও অন্তত ৩০টি পরিবারকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে জমি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউসুফ মুসল্লির বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে মোসা. ফাতেমা বলেন, ‘ইউসুফ মুসল্লি আমাকে বলছে এই জমির পাওয়ার আমার কাছে আমি দলিল দিবো এই বলে সে আমার থেকে ৭ লাখ টাকা নেছে এবং যার মাধ্যমে গেছি সে নেছে ৩ লাখ। শুধু আমি না এখানের প্রায় আড়াইশ ফ্যামিলি আছে সবার থেকে টাকা নেছে। গতকাল ও ইউসুফ মুসল্লির সঙ্গে কথা হইছে, সে বলছে আমার কাছে কাগজ পত্র সব আছে আমি দলিল দিবো অন্য কাউকে আবার টাকা দিয়ো না।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরও পাওয়া যায়, কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বারেক মোল্লা আলিপুর মৌজার ১০৪২ এসএ খতিয়ান এবং ৩০৫ নম্বর বিএস খতিয়ানের অনেক জমি জাল কাগজ তৈরি করে দখল করেছেন। অন্যদিকে তার ভাই এলাকার যুবলীগের সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা একই ১০৪২ এসএ খতিয়ান ও ১৭৬১ নম্বর বিএস খতিয়ানের ২১৯ দাগ থেকে ১৮ শতাংশ, ৪৭৪ নম্বর খতিয়ান, ১০৮৬ ও ১০৮৮ খতিয়ান থেকে ৮.৫০ শতাংশ এবং ৬২ নম্বর খতিয়ানের ৪২০৬ দাগ থেকে ১২ শতাংশ জমি দখল করে বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ৪৩০ নং ভুয়া আমমোক্তারনামা নোটারি করে এসব জমি নিজেদের দখলে নেন।
এ বিষয়ে হোসেন মোল্লা বলেন, এটা মিথ্যা কথা ভুল কথা আমরা অংশাচি এর থেকে দলিল নিয়েছি, উনি আমাদের কাছে বিক্রি করেছে, বসাইয়াও দিয়েছে। আপনি স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেন। ২০১০ সালের পরে কিছু জমি তো দখল করেছে, সেটা তো আমরা করিনি। স্থানীয় ভাবে যারা জমিতে বসা আছে, যাদের দলিল নাই কিছু নাই তারা দখল করছে। এটা স্পষ্ট।
জানতে চাইলে বারেক মোল্লা বলেন, দলিল ছাড়া আমার জমি নাই এক শতাংশ। আমার জমি তাদের থেকে নিলে অল্প নেয়া থাকতে পারে কিন্তু আমার জমি অন্য মানুষের থেকে নেয়া এই পাওয়ার এগুলোর বিষয়ে আমি জানি না এগুলো কাগজ পত্র ঘাটলে বোঝা যাবে। এছাড়া তাদের অনেক জমি আছে তারা দলিল দেয় নাই কিন্তু মানুষ দখল করে আছে। না দলিল দেছে আর না দেছে সব অংশাচি বাবুর ডায়েরিতে লেখা আছে সে যদি আসে এবং একদিন বসবে কোটি কোটি টাকার জমি বের হয়ে যাবে।
সরেজমিনে কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় লাচাউ রাখাইন পরিবারের অভিযোগ অনুসন্ধানে গেলে আরও করুণ ও উদ্বেগজনক চিত্র চোখে পড়ে। আলীপুরের থ্রীপয়েন্টের পশ্চিম পাশে লাচাউ পরিবারের ২১ শতাংশ জমির ওপর বর্তমানে একটি মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে রয়েছে ৮টি দোকান এবং পেছনে নির্মিত হয়েছে ৫টি বসতঘর। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই মার্কেটটি ‘খাদেম উল কায়েস জজের মার্কেট’নামেই পরিচিত। এছাড়া এর আসে পাশে অধিকাংশ জমি ইউসুফ মুসল্লি টাকা নিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এ সময় কথা হয় ওই মার্কেটের ওয়ার্কশপ দোকানি মো. কালামের সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানি এটা জজ সাহেবের জমি তার বউয়ের নামে। এখানে ৮টা দোকান ও ৫টার মতো ঘর আছে। এসবের ভাড়া তার ভাই হারুন মাওলানা উঠায়।
এসময় ওই এলাকার বাসিন্দা টাইলসের দোকানের মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ইউসুফ মুসল্লির সাথে যুদ্ধ করে আমার আসতে হয়েছে সে আমার থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে বলেছে এ জমি সব তার। স্টাম্প আছে। সে এখানে অনেকের কাছে থেকে নিয়েছে। এখনও বলে জমি তার। এই পাশে একটি জমিতে মনা ব্যপারি দখলে ছিল দীর্ঘ বছর পরে তাদের কাছে থেকে দলিল নেছে। এখানে মনা ব্যাপারীর বাউন্ডারি ছিল, এই টিন ছিল ওই চাল হেইয়া ভাইঙ্গা চুইরা ইউসুফ মুসল্লি তার বোনাইরে উঠাইয়া দেছে হারুন মওলানারে জজের আপন ভাই। আমরা তো টেইক্কা গেছি। ইউসুফ মুসল্লি লাস্ট ফিনিশিংএ খাতা নিয়ে আসছে সেখানে লেখা বেয়াল্লিশ লক্ষ টাকা অংশাচি বাবু ইউসুফ মুসল্লির কাছে থেকে নেচে আরে বোকা ব্যাটা খাতায় লেইখ্যা অংশাচি বাবুরে লড়াও আর আমাদের স্ট্যাম্প দিয়াই তোরে ধরতে পারি না আর তুই খাতা দিয়া তারে লড়াও। এগুলোতো আগে জানি না। আমরা জানি সব জমি ইউসুফ মুসল্লির। সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।
এসময় ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, ইউসুফ মুসল্লি বহুত টাকা খাইছে, উনি তো আর নিজে দখল করে নাই মানুষ বসাইয়া টাকা দিয়া নেচে। এইয়া দিয়া ১ কোটি টাকার মতো নেছে নরমাল। উনি (খাদেমউল সাহেব। ওনার (ইউসুফ মুসল্লি) সাথে বিভিন্ন জায়গায় এসেই ঠ্যাক দিতো। এইজে ঘরটা ওনার (রিয়াজ মোর্শেদের) ধরেন উনি ১২ বছর আগে দখলে আসছে জোর করে উঠছে এখন আসবে কে অংশাচি বাবু নাইলে লাচাউ কিন্তু এর মধ্যে ইট গাইথা তছনছ কইরা ওনারে (রিয়াজ মোর্শেদকে) নামাইয়া দেয় ইউসুফ মুসল্লি গং যৌথ পরে উনি আর আমি একটা মেধা খাটাইয়া টিক্কা গেছি।
ইউসুফ মুসল্লি দখল করার পিছনে খাদেমুল সাহেব আছে কি না জানতে চাইলে রিয়াজ মোর্শেদ ও ইসমাইল হোসেন বলেন,‘ অবশ্যই এটা আমরা বলতে চাই, তারপর যদি সুযোগ পাই। মূলত ইউসুফ মুসল্লি জমির ব্যবসা করে আত্মীয় স্বজন ক্ষমতায় থালে, তাঁকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে উনি হেইডা করছে কিন্তু জজ সাহেবে ধরা খাইয়া গেছে।
এসময় কথা হয় ফারুক হোসেন নামের অন্য এক ব্যক্তির সাথে তিনি বলেন,এখানে কে এরিয়া সব জমি ইউসুফ মুসল্লি বিক্রি করছে। ওই ওখানে (রাস্তার ওপারে) বাড়ি ঘর দেখেন তারা ইউসুফ মুসল্লি বিক্রি করছে। আবার এই খানের যে জমিটা যারা আছে তার হইলো জোর জুলুম করে দখল করছে। অস্ট্রোলিয়া বাবু যাওয়ার মুহূর্তে তাঁকে ধাবরাইয়া এই জমি দখল কইরা নেছে। এইটা নজরুল ফকির দখল করছে, অকুলে মিল্টন মাঝি, মজিবর বেন্টর এরা সব দখল করছে। এরা করো থেকে কেনেও নাই দুই পয়সা দেয়ও নাই।
ইউসুফ মুসল্লি খাদেমউল সাহেবের বেয়াই কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি আপনাকে একটা কথা বলি, আপনার পেপার যদি না থাকে, আপনি জজ ক্যা ব্যারিস্টার হন প্রধানমন্ত্রী হইলেও তো এই করতে পারেন না।
বাংলাদেশে এসেছিলেন লাচাউ রাখাইন ও তার বড় ছেলে উয়েনচিং রাখাইনের স্ত্রী খ্যামামে
জানতে চাইলে খ্যামামে বলেন, আমাদের পরিবার অস্ট্রেলিয়া থাকা ও দীর্ঘদিন দেশে না আশার কারনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আমাদের জমিজমা বিভিন্ন ভুয়া জাল কাগজ সৃষ্টি করে জমি জবর দখল করে আছে আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস ইউসুফ মুসল্লিসহ অনেকে। আমরা দেশে এসে তাদের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোন গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো আমরা যে মামলা গুলো করেছি সেগুলোতে তারা প্রভাব বিস্তার করছে। যেহেতু আমরা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানাই সরকারের সংশ্লিষ্ট যেসব সংস্থা রয়েছে আমাদের সহযোগিতা করে আমাদের সুরক্ষা দেয়।
লাচাউ রাখাইন (৮৬) বলেন, আমি দেশে এসে জানি আমার জমিজমা জালিয়াতি করে মানুষ নিয়ে যাচ্ছে। আমি সেই জমি উদ্ধার করতে গেলেও আমাকে হুমকি ধামকি দেয় যাতে আমরা এলাকায় না যেতে পারি। এই অন্যায়ের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের বিচার চাই বাংলাদেশের সরকারের কাছে।
এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমউল কায়েস বলেন, আইন নিয়ম সবার জন্য সমান সেখানে যদি কোনো ঝামেলা থাকে সেটা কোর্ট দেখবে অথরিটি দেখবে। কিন্তু কথা হলো জমিতো সবাই কিনতে পারবে আল্লাহ যদি সামর্থ দেয় আপনি কিনতে পারবেন আমি ১ ইঞ্চি পারব। আইন আছে আইনের বিষয় আছে সাবরেজিস্ট্রি অফিস আছে। কেউ যদি কারো প্রতি অন্যায় করে দেখার মতো এজেন্সীও আছে।
ইউসুফ মুসল্লি ও তার ভাই হারুন মাওলানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বেয়াই বলে কথা না, আইনে যার জন্য যেটা প্রযোজ্য তার জন্য সেটাই প্রযোজ্য হবে, ইউসুফ মুসল্লির জবাব সে দিবে । আমার ভাই কিছু করলে তার সঙ্গে কথা বলেন, তারা কি বলে শুনেন। নিয়মের বাইরে গেলে আমরা কেউ কিছু করতে পারবো না, সাপোর্ট করিও না করবো না।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসুফমুসল্লি ও হারুন মাওলানাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টির কতটুকু সত্যতা রয়েছে বা সরকারি দপ্তরে রক্ষিত নথিপত্র অনুযায়ী আলোচ্য জমির মালিকানাকার এগুলো যাচাই করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড কে বলা হবে।