সম্প্রতি শরীফ ওসমান বিন হাদীর জানাজার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে জনসমাগমের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি জানাজার তালিকা আবার আলোচনায় এসেছে। বিশিষ্ট এই পাঁচ জনের জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ ইতিহাসে রেখাপাত করেছে।
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদীর জানাজা গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সংসদ ভবন চত্বর ও সংলগ্ন সড়কগুলো জনসমাগমে পূর্ণ হয়ে ওঠে। জাতীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনে হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়। তার জানাজায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে পরিচিত।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন সোহরাওয়ার্দী। ৮ ডিসেম্বর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। সেসময় বিপুল সংখ্যক মানুষ তার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। তাকে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী
২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজা। লক্ষাধিক মানুষের এই সমাবেশ দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত। তাকে মাদরাসার অভ্যন্তরীণ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট পিরোজপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর এই নেতার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পিরোজপুর ও আশপাশের জেলার হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। ১৪ আগস্ট বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই পাঁচটি জানাজা বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যাপক জনসংযোগের ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।