বাংলাদেশে এইচএসবিসি’র (দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন) ১০০ জন চাকরিচ্যুত ক্ষতিগ্রস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে তাদের পক্ষে এ দাবি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোকাররামুস শাকলান।
তিনি অভিযোগ করেন, এইচএসবিসি চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে বাংলাদেশের শ্রম আইনের বিধান অনুসরন না করে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এইচএসবিসি বাংলাদেশে তাদের ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়েলথ অ্যান্ড প্রিমিয়ার ব্যাংকিং’ ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়িক পুনর্গঠন কোনো অবৈধ কাজ নয়। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দু:খজনক।’
আইনজীবী বলেন, ‘কোনপ্রকার আলোচনা বা স্বচ্ছতা ছাড়াই কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের খবর জানানো হয়েছে। কিন্তু ছাটাইয়ের ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ড অনুসরন করা হয়েছে বা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের কাঠামো কি তা প্রকাশ করা হয়নি।’ অ্যাডভোকেট মোকাররামুস শাকলান বলেন, ‘বিগত ৫ মাস ধরে একাধিকবার লিখিত অনুরোধ সত্বেও এইচএসবিসি ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের সাথে অর্থবহ কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা তাদের হিসেবের পদ্ধতি প্রকাশ করেনি এবং কর্মচারীদের সাথে কোনো ধরনের সংলাপে বসতে রাজি হয়নি।’
আইনজীবী আরও বলেন, ‘এইচএসবিসি বাংলাদেশে এখনো অনেক লাভ করছে। ২০২৪ সালে তারা ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা লাভ করেছে। কিন্তু লাভ থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মীদের ন্যায্য পাওনা দিচ্ছে না। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে তারা ১৪৩ কোটি টাকা (কর-পূর্ব) মুনাফা অর্জন করেছে।’ আইনজীবী বলেন, ‘অন্যান্য দেশে এইচএসবিসি তাদের ব্যবসা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছে, যাতে কর্মীদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে তারা ব্যবসাটি বিক্রি না করে সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। এতে করে কর্মীদের (চাকরিচ্যুতদের) কর্মসংস্থান ও দরকষাকষির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে।’
ইতোমধ্যে এইচএসবিসি’র বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে জানিয়ে অ্যাডভোকেট মোকাররামুস শাকলান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগ ১৫ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে তারা এই দেশে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শ্রম আইনের ২৩৪ ধারার বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ পাবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিক- কর্মচারীরা। কিন্তু এক্ষেত্রে এইচএসবিসি সেই পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি।’