দেশ রূপান্তর : আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অনুপ কুমার সরকার : বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাসন চাহিদা যে হারে বাড়ছে, তা শুধু সরকারের একার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বেসরকারি ডেভেলপাররা বিনিয়োগ, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত ও মানসম্মত আবাসন সরবরাহ করতে পারছে। ফলে নগর আবাসন সংকট লাঘবের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির গতিশীলতাও নিশ্চিত হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : সুলভে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে কনকর্ড গ্রাহকদের কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নেয়?
অনুপ কুমার : কনকর্ড সবসময় গ্রাহকদের সামর্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেয়। এ জন্য আমরা প্রকল্প পরিকল্পনার সময় জমির সঠিক ব্যবহার, ব্যয়-সাশ্রয়ী নকশা, মানসম্মত এবং টেকসই নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন বিবেচনায় রাখি।
দেশ রূপান্তর : টেকসই এবং ভূমিকম্প সহনশীল নগরী গড়ে মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কনকর্ডসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে অবদান রাখতে পারে?
অনুপ কুমার : টেকসই ও ভূমিকম্প সহনশীল নগরায়ণ গড়ে তুলতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কনকর্ড বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করে আধুনিক ও ভূমিকম্প সহনশীল নকশায় ভবন নির্মাণ করে আসছে। উন্নত নির্মাণপ্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উপকরণ এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে আমরা মানুষের নিরাপদ ও টেকসই বসবাস নিশ্চিত করার চেষ্টা করি।
এ ছাড়া কনকর্ড তাদের প্রতিটি ভবনে পোড়ামাটি ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও হালকা কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করছে, যার ফলে ভবনের মোট ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস পায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, সবুজায়ন এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কনকর্ড সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে আপনারা কী ধরনের নীতি-সহায়তা প্রত্যাশা করেন?
অনুপ কুমার : সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হতে পারে। আমরা বিশেষভাবে জমির প্রাপ্যতা সহজ করা, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প সুদের অর্থায়ন সুবিধা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে কর ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ে প্রণোদনার প্রত্যাশা করি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সবার জন্য বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।