দেশের আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আরমা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্প্রতি বেসরকারি আবাসন খাত এবং রিহ্যাব ফেয়ার নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছেন আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সাল খান
দেশ রূপান্তর : যে কেউ চাইলে ফ্ল্যাট বা প্লট সরাসরি কোম্পানি থেকে ক্রয় করতে পারে। তাহলে রিহ্যাব ফেয়ারের প্রয়োজনীয়তা কি?
আব্দুর রাজ্জাক : কেউ গুলশান-বনানী, কেউ মিরপুর, উত্তরা, বসুন্ধরা বা আফতাবনগর এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চান। এসব এলাকার ফ্ল্যাটের দামসহ খুঁটিনাটি নানা দিক জানতে হলে তাদের অফিসে যেতে হয়। যানজট আর কর্মব্যস্ত এই শহরে এত বেশি সময় মানুষের হয়ে ওঠে না। কিন্তু রিহ্যাব ফেয়ারে একই ছাদের নিচে প্রায় ২২০টি প্রতিষ্ঠান থাকছে। চাইলে যে কেউ ভিন্ন লোকেশন এবং ভিন্ন কোম্পানির ফ্ল্যাট সম্পর্কে জানতে পারবেন, বুকিং দিতে পারবেন।
এখানে শুধু আবাসন কোম্পানিই নয়, বিভিন্ন লিকেজ প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকও অংশ নিচ্ছে। ফলে সহজেই আবাসনের ঋণ ও অন্যান্য বিষয়ে জানার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এত সুযোগ শুধু রিহ্যাব ফেয়ারেই পাওয়া সম্ভব।
দেশ রূপান্তর : আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের অবদান কতটুকু?
আব্দুর রাজ্জাক : সরকারি উদ্যোগে যেসব আবাসন নির্মাণ করা হয়, তার বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য। এগুলো আবার চাকরি শেষে তারা ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আবাসন সংকটে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে বেসরকারি খাত। সরকারের উচিত হবে এ খাতের জন্য আইন-কানুন ব্যবসায়ীবান্ধব করে তৈরি করা। যাতে মানুষ সহজেই নিজেদের আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
দেশ রূপান্তর : নিরাপদ, টেকসই ও মানসম্মত আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা কী?
আব্দুর রাজ্জাক : সস্তার তিন অবস্থা। এ জন্য ডেভেলপারদের যেমন দায় আছে, ল্যান্ড ওনারদেরও দায় আছে, তেমনি ক্রেতারাও দায় এড়াতে পারেন না। তাই ফ্ল্যাট বা কমার্শিয়াল স্পেস কেনার ক্ষেত্রে একজন ক্রেতাকে অবশ্যই দেখতে হবে যে, কোম্পানি রিহ্যাবের সদস্য কি না, তাদের আগের ইতিহাস কি, তারা বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি কোড) মেনে ভবন তৈরি করছে কি না।
দেশ রূপান্তর : একজন ক্রেতা তো এসব বিষয় নাও বুঝতে পারেন। সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
আব্দুর রাজ্জাক : একজন ক্রেতা, যিনি দেড়-দুই কোটি বা পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বা কমার্শিয়াল স্পেস কিনবেন তিনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করিয়ে নিতে পারেন। এতে খুব বেশি খরচ হয় না। তখন ওই প্রকৌশলীই বলে দিতে পারবেন ভবনটি বিএনবিসি কোড মেনে তৈরি হয়েছে কি না। এই ভবনে ফ্ল্যাট কেনা যাবে কি যাবে না এই বিষয়ে তিনি ভাল ধারণা দিতে পারবেন।
দেশ রূপান্তর : রিহ্যাবের সদস্য এবং সদস্যের বাইরে ফ্ল্যাট কেনার পার্থক্য কি?
আব্দুর রাজ্জাক : রিহ্যাবের সদস্য নয়, এমন কোনো কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে ক্রেতা বিচার পায় না। রিহ্যাবের সদস্য হলে, যেকোনো সমস্যা সমাধানের সুযোগ আছে, প্রতিকারের সুযোগ আছে। রিহ্যাবের সদস্য কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই।
আফতাবনগরের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ২০২২ সালে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেন। ওই কোম্পানিটি রিহ্যাবের সদস্য নয়। ২০২৫ সালে এসেও সেই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। নানা রফাদফা শেষে তাকে বুকিং দেওয়া ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাইছে। আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। কিন্তু আমরা কোনো প্রতিকার দিতে পারি না। তাই নিশ্চিত করেই বলা যায়, রিহ্যাবের সদস্য নয় এমন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।
আব্দুর রাজ্জাক : আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের পাঠকদের শুভেচ্ছা জানাই।