আতাউর রহমান বিক্রমপুরী গ্রেপ্তার

আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধিযাচনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধিযাচনের ভিত্তিতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে জিএমপিতে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তালেবুর রহমান বলেন, আতাউর রহমানের বিষয়ে তিন মাসের ডিটেনশন আদেশ আছে। সে জন্য জিএমপি অনুরোধ করে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, বিক্রমপুরী প্রথম আলোর সামনের বিক্ষোভে ছিলেন। সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেওয়াতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শাহবাগ থেকে নারী হয়রানিকারীকে ছাড়িয়ে নিতেও তিনি যশোর থেকে ঢাকায় এসে নেতৃত্ব দেন। 

বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেসবুকে অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি তিনি তার এক ফেসবুক পোস্টে বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতীব মাওলানা আব্দুল মালেককে মুনাফেক এবং ‘তাগুতের কুকুর’ বলে অভিহিত করেন। 

এ ছাড়া তিনি ‘এন্টি শাতিম মুভমেন্ট’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ চালান যেখানে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক পোস্টে ‘শাতিমে রসুল’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তাকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়। 

গণতন্ত্র চর্চাকারী মুসলিমদের ‘কাফির’ মনে করে বিক্রমপুরী নিয়মিত পোস্ট করেন এবং বয়ান করেন। নাস্তিকদের হত্যা করার জন্যও তিনি উস্কানি দেন। আইএসকে খারেজি মনে করলেও আল-কায়দা ও তালিবানকে হক্বপন্থি দল বলে তিনি প্রচারণা চালান। ২০২১ সালে তাকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

আতাউর কারাগারে থাকা জঙ্গিদের মুক্তির জন্য কাজ করা বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং ৫ আগস্টের পর তিনি তার দলবল নিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে জঙ্গিদের মুক্ত করে আনার জন্য জড়ো হয়ে কর্মকর্তাদের জেরা করেন।