আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মা দুজনই খেলেন ওয়ানডে। এই সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। কিন্তু ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে টার্গেট করে ফাকা সময়টায় ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিজয় হাজারে ট্রফি খেলছেন দুজন। আর দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া আসর খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করেছেন দুজনই।
জয়পুরে ‘হিটম্যান’ ঝড়
৭ বছর পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের জার্সিতে ফিরেই আগুন ঝরিয়েছেন রোহিত শর্মা। সিকিমের বিপক্ষে ২৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নামা রোহিত মাত্র ৬২ বলে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, যা লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তার দ্রুততম। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৬৩ বলে সেঞ্চুরিই ছিল তার সেরা।
জয়পুরের দর্শকে পরিপূর্ন সাওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে এই সেঞ্চুরি রোহিতের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ৩৭তম, যার ৩৩টিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। মজার ব্যাপার, ১৭ বছর আগে বিজয় হাজারে ট্রফিতে অভিষেকের পর মুম্বাইয়ের হয়ে এটি তার মাত্র দ্বিতীয় লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি। ১৪ হাজার রানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা রোহিত বুঝিয়ে দিলেন—ঘরোয়া মঞ্চ হলেও ব্যাটের তেজ কমেনি একটুও। তার এই সেঞ্চুরি মাঠে বসে দেখেছেন জাতীয় নির্বাচক আরপি সিং। এক দর্শক মন্তব্য করেছেন, 'গম্ভীর ভাই, তুমি কি দেখেছো রোহিত ভাইয়ের খেলা।'
নিঃশব্দ মাঠে কোহলির লড়াই
বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই এক্সেলেন্স সেন্টারের দর্শকহীন মাঠে অন্ধ্যের আন্ধ্রের ২৯৮ রানের জবাবে তৃতীয় বলেই উইকেট পড়ে গেলে দ্রুত ক্রিজে নামেন কোহলি। প্রথম কয়েক ওভারে ঝুঁকি নিয়েই খেলতে থাকেন। ক্যাচ দিয়েও পার পেয়েছেন—৩২ ও ৯৭ রানে। কিন্তু সুযোগ পেলে কী করতে হয়, তা কোহলি ভালোই জানেন। প্রিয়াংশ আর্যের ঝড়ো ইনিংসের পর দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেন কোহলি। অহেতুক বড় শট নয়, বরং যেগুলো মারতেই হয়—সেগুলোই মারলেন। ৮৩তম বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এক ক্লাসিক স্ট্রোক দিয়ে। ১৬ বছর পর এই টুর্নামেন্টে করা সেঞ্চুরি শেষপর্যন্ত ১০১ বলে ১৩১ রানে নিয়ে যান তিনি ১৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়।
২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফির ওয়ানডে টুর্নামেন্টে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল কোহলির। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্বের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৬ হাজার লিস্ট ‘এ’ রান পূর্ণ করলেন কোহলি। এতে তার খেলত হয়েছে ৩৪৩ ম্যাচ। এই পর্যায়ে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার গড়ই সর্বোচ্চ—৫৭.৩৪।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দিক থেকে অবশ্য এখনো টেন্ডুলকারের পেছনেই আছেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৫৩টি সেঞ্চুরি করে শচীন টেন্ডুলকারকেকে পেছনে ফেললেও সব মিলিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শচীনের সেঞ্চুরি সংখ্যা ৬০, আর কোহলির ৫৮। রানের দিক থেকেও শচীন এগিয়ে। তার সংগ্রহ ২১ হাজার ৯৯৯ রান। কোহলির ১৬ হাজার ১৩০।