বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন আগামীকাল। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজধানীজুড়ে থাকবে নিরাপত্তার বলয়। কভার্ট অ্যান্ড ওভার্টসহ ২ হাজারের অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে নিরাপত্তায়। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ থানাকেও দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার জোরদারের নির্দেশনা। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ৯টি চেকপোস্টসহ আশপাশে এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় চেকপোস্ট থাকবে বলেও জানা যায়। সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে র্যাব ও ডিএমপির গোয়েন্দা বাহিনী। বিমানবন্দর, গুলশান ও এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডিএমপি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, তারেক রহমান আগমনে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেখান থেকে ৩০০ ফিট সমাবেশ মঞ্চ, এরপর এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ও তার বাসভবনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও বলেন, তারেক রহমান বিমানবন্দরে আসার পর তাকে বহনকারী গাড়ির আগে-পিছে পুলিশ প্রটেকশন দেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবে। এ ছাড়া তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ।
দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করছে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পর্যাপ্তসংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ নিরপত্তাব্যবস্থা হলো-প্রকাশ্য ও গোপনে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়। প্রকাশ্যে পোশাকধারী এবং গোপনে গোয়েন্দা নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। এ ছাড়া রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-এই তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ছক। রেড জোনে যারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন, তাদের বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ওই কার্ড ছাড়া কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। ইয়েলো জোনের জন্য থাকছে আলাদা কার্ড। যারা এই কার্ড পাবেন, তারাই কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটা বিবেচিত হবে হোয়াইট জোন হিসাবে। এই জোনে প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা এবং তার বাসভবনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ডিএমপি জানায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশান-২ এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনা উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঢাকায় এসেছেন। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোতে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। প্রায় সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। ফাঁকা নেই তিনতারকা মানের বা তার নিচের দিকের হোটেলের রুমও। বিশেষ করে পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, শাহবাগ, কাওরান বাজার, সায়েদাবাদ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এই চাপ অনেক বেশি। হোটেল মালিকরা এই সুযোগে স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত রুম ভাড়া নিচ্ছে তাপরও রুম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময় বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়ক পরিহার করতে বলা হয়েছে।
বিকল্প রুট হিসেবে- আব্দুল্লাহপুর থেকে গাবতলীগামী যানবাহন কামারপাড়া-ধউর ব্রিজ-পঞ্চবটি-মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে চলাচল করবে। উত্তরা ও মিরপুর এলাকার বাসিন্দারা এয়ারপোর্ট সড়ক এড়িয়ে হাউজ বিল্ডিং-জমজম টাওয়ার-১২ নম্বর সেক্টর হয়ে খালপাড়-মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর স্টেশন-উত্তরা সেন্টার স্টেশন-মিরপুর ডিওএইচএস হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ ব্যবহার করবেন। গুলশান ও বনানী এলাকার যানবাহন গুলশান-১ ও পুলিশ প্লাজা হয়ে মহাখালী না গিয়ে কাকলী-গুলশান-২-কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ ব্যবহার করবে। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের মল চত্বর থেকে বামে মোড় নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে মাদানী এভিনিউ হয়ে চলাচল করবে।
মহাখালী থেকে গাবতলীমুখী যানবাহন মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া তেজগাঁও ও মিরপুর এলাকার যানবাহন মিরপুর ডিওএইচএস হয়ে মেট্রোরেলের নিচের রাস্তা দিয়ে উত্তরা এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে।
ঢাকার বাইরে থেকে আগত যানবাহনের জন্য ভোর ৪টা থেকে নির্ধারিত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টঙ্গী ও জয়দেবপুর রুটের গাড়ি বিশ্ব ইজতেমা মাঠে পার্কিং করতে হবে। সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের গাড়ি নীলা মার্কেট বা পূর্বাচল বাণিজ্যমেলা মাঠে, আমিনবাজার ও গাবতলী রুটের গাড়ি উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি পশুরহাট মাঠে পার্কিং করা যবে। এ ছাড়া বাবুবাজার ও বসিলা ব্রিজ রুটের গাড়ি আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে এবং মাওয়া ও বুড়িগঙ্গা ব্রিজ রুটের গাড়ি মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় পার্ক করতে বলা হয়েছে।