অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়, যুবদল কর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ

ফেনীর সোনাগাজীতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল কর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চরদরবেশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লালমিয়া ফকির বাড়ির যাতায়াতের পথ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় যুবদলকর্মী ফয়েজ উল্লাহ শিবলুর অভিযোগ এই অস্ত্র দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ওই বাড়ির মৃত ওয়াজি উল্লাহর ছেলে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, গভীর রাতে পুলিশ তার বাড়িতে এসে প্রথমে ঘর তল্লাশির কথা বলে। ঘরে কিছু না পেয়ে পরে যাতায়াতের পথে টিন দিয়ে ঢাকা একটি স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি বের করে সেটি তার বলে দাবি করেন। শিবলুর দাবি। 

এ সময় পুলিশ তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা অনড় থাকায় পুলিশ অস্ত্রটি পরিত্যক্ত দেখিয়ে সরে যায়।

শিবলুর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তার ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে সরাসরি বাড়িতে ঢোকার যাতায়াতের পথে একটি ছোট টিনের খণ্ড দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মাটির উপর থেকে থেকে একটি অস্ত্র ও গুলি বের করে আনে। এরপর সেগুলো তার বলে দাবি করে এসআই গোলাম কিবরিয়া  তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।  তবে তিনি ও বাড়ির সদস্যরা অস্ত্র ও গুলি  তাদের নয় বলে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলে একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

সংবাদ সম্মেলনে শিবলু আরও বলেন, সোনাগাজীতে বিএনপির দুটি বিবদমান গ্রুপের রাজনীতির বলি হচ্ছেন তারা। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসাতে এই নাটক সাজিয়েছে বলে তার দাবি। 

তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই অভিযোগে সেনাবাহিনী এসে তল্লাশি চালিয়েও কোনও অস্ত্র পায়নি। এরপরও বারবার তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দলীয় হাইকমান্ড ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লিপি আক্তার বলেন, পুলিশ শিবলু কাকার ঘরে জোরপূর্বক তল্লাশি চালিয়েও কোনও অস্ত্র পায়নি। তল্লাশি শেষে তারা বাড়ির অন্য কোথাও না গিয়ে সরাসরি প্রবেশপথের পাশে টয়লেটের কাছে গিয়ে টিনের নিচে অস্ত্র আছে বলে জানায়। আমরা সব কিছুই দেখতে পাচ্ছি জানানো পর পুলিশ টিন সরিয়ে অস্ত্র বের করে সেটিকে শিবলু কাকার বলে দাবি করে।

তিনি আরও বলেন, ঘরে বা তার কাছে কোনও অস্ত্র না পাওয়ার পরও কীভাবে অস্ত্রটি তার—এ প্রশ্ন করা হলে একপর্যায়ে পুলিশ দাবি করে, হয়তো কেউ কিছুক্ষণ আগে তাকে ফাঁসাতে সেখানে অস্ত্র রেখে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়া বলেন, অস্ত্র দিয়ে কাউকে ফাঁসানোর অভিযোগ সঠিক নয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবলুর বাড়ির যাতায়াতের পথে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী–দাগণভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান বলেন, অস্ত্রটি শিবলুর বাড়ির বাইরে চলাচলের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বা তাকে ফাঁসানোর কোনও বিষয় ঘটেনি। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।