বরিশালে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলে হাতে বিষের বোতল এবং শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন এক সাংবাদিক।
আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদ করেন সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টিভির বরিশাল বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
প্রতিবাদ চলাকালে ফিরোজ মোস্তফা অভিযোগ করেন, কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই সাইদুল ইসলাম সাঈদ এবং আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল নাভিদ আনজুমের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তার দাবি, দুই পুলিশ সদস্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে সংগৃহীত ছবি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর, উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ এবং টানা তিন দিন আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফিরোজ মোস্তফা আরও জানান, সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর তার অফিসে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এসব মালামাল এখনো তাকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিগুলোও ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে দুপুর ১টার দিকে তিনি তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই সাইদুল ইসলাম সাঈদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাংবাদিকের পূর্বপরিচয় ছিল, যা পরবর্তীতে তিক্ততায় রূপ নেয়। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারও অন্যায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।