সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে কখনোই ছিলাম না

অধরা জাহান। প্রায় বিশ বছর শোবিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন উপস্থাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করছেন সুনামের সঙ্গে। এবারের বইমেলায় আসছে তার লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি শুরু করেছেন গান লেখার কাজ।

চলতি বছর, কাজ এবং নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে দেশ রূপান্তর কেমন আছেন? বছরের শেষপ্রান্তে ব্যস্ততা কেমন?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। সারা বছরের তুলনায় শেষটা বেশ ভালো কাটছে। নানা রকম কাজের মধ্যেই ব্যস্ত আছি। চলতি মাস বিজয়ের মাস। বিজয় দিবসকে ঘিরে আমার লেখা দশটি গান দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আয়োজন হলো ‘অক্ষয় ইতিহাস’ নামের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। সবগুলো গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আলম আরা মিনু আপা। গেয়েছেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। এছাড়াও আরও বেশ কিছু নতুন গানের কাজ চলছে। সামনেই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে গানগুলো প্রকাশিত হবে।

উপস্থাপনা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কেমন?

আমি অনেক মাধ্যমে কাজ করলেও সবার আগে আমি একজন বাচিকশিল্পী। উপস্থাপনাটা সব সময়ই আমার ভালোবাসার বিষয় ছিল। মাঝেমধ্যে নীরব হয়ে যাই চারপাশের নোংরামি দেখে। আমি আমার দুই দশকের ক্যারিয়ারে কোনোদিনও কোনো সিন্ডিকেটের অংশ ছিলাম না। এ কারণে মাঝেমধ্যে নিজ থেকেই অব্যাহতি নিই। আবার পরিবেশ সুস্থ মনে হলে নিজেই ফিরে আসি।

আসন্ন বইমেলা নিয়ে প্রস্তুতি কেমন?

মূলত প্রতি বছর এই বইমেলার সময়ে আমি বেশি ব্যস্ত থাকি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন। এ বছর আমার লেখা দুটি বই বের হওয়ার কথা ছিল। তবে সময় এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুটি নয়, একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পাবে। বইটির নাম ‘রাত্রি যখন আসে’।

দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে বইয়ের সংখ্যা কমানোর সম্পর্ক কী?

একটি বইয়ের পেছনে একজন প্রকাশক অনেক টাকা, সময় এবং শ্রম ব্যয় করেন। কিন্তু এত কিছুর পর যদি প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া যায় তাহলে সেটা লস প্রজেক্ট। পাঠকদের জন্যই একজন লেখক প্রকাশক টিকে থাকেন। বইমেলায় যদি পাঠক না থাকেন, বই বিক্রি না হয় তাতে একজন প্রকাশকের সময় শ্রম টাকা সবই লোকসানের কবলে চলে যায়। সেই দিক বিবেচনা করেই এ বছর একটি বই প্রকাশ করব।

নতুন বছরের পরিকল্পনা?

সত্যি কথা বলতে, আহামরি কিংবা নির্দিষ্ট তেমন পরিকল্পনা নেই। উপস্থাপনা, লেখালেখির পাশাপাশি সংবাদ পাঠক হিসেবে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে আছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে যেন সুন্দরভাবে নিরাপদে থাকতে পারি, আর দেশটাও যেন স্বাভাবিক ও শান্ত থাকে এটাই প্রত্যাশা।