দুর্গেই বড় চ্যালেঞ্জ এলডিপির

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনটি। বিএনপি ও এলডিপির প্রার্থী হয়ে পাঁচবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়েছেন অলি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে এবার তিনি ভোটযুদ্ধে নামাচ্ছেন পুত্র অধ্যাপক ওমর ফারুককে। এতদিন বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে এলডিপি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় ভোটের মাঠে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে অলিপুত্রকে। 

চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন অলি আহমদ। এ সময় এলাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তির ভিত্তিকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছেন তিনি। ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নামে নতুন দল গঠন করলেও নিজ এলাকায় অলির প্রভাবে খুব একটা হেরফের হয়নি। ২০০৮ সালে এলডিপি প্রার্থী হিসেবে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও জয়ী হয়েছিলেন তিনি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ আসনে ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়ে বেশ আগেভাগেই মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন তাকে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে থেকে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। ইতিমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়েছে ওমর ফারুকের জন্য। 

এবারের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এলডিপি ভোটের মাঠে থাকবে এমনটাই আলোচনা ছিল সর্বত্র। বিএনপির দুই দফায় সারা দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করায় এটি এলডিপিকে ছাড় দেওয়ার জোরালো গুঞ্জনও ছিল। কিন্তু জোট নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এখন একাই চলতে হবে এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুককে। 

এদিকে, চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আসনটিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপিতে প্রায় অর্ধডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মহসিন জিল্লুর করিম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এম এ হাশেম রাজু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিকুল ইসলাম রাহীসহ আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।

এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন সেখানে বিএনপির একক প্রার্থীর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ধানের শীষের প্রার্থী থাকলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই থাকবেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রায় এক বছর আগে আসনটিতে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে ডা. শাহাদাত হোসেনকে। নির্বাচনী আসনের সাতকানিয়া অংশে জামায়াতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠ গোছানোর কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত বৃহত্তর সুন্নি জোটের পক্ষ থেকেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলায়মান ফারুকীকে প্রার্থী করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পরিচিতির কারণে তিনিও ভালো অবস্থানে থাকবেন বলে অনেকের ধারণা। 

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এলাকায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও একাধিকবারের এমপি-মন্ত্রী হিসেবে অলি আহমদের যে অবস্থান রয়েছে, এলডিপি প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আসা ওমর ফারুকের পক্ষে তা অক্ষুন্ন রাখা বেশ কঠিন হতে পারে।

তাছাড়া বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে তিনি যে বাড়তি সুবিধা পেতেন, বিএনপির একক প্রার্থী থাকলে সেদিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেগ পেতে হবে।

পাশাপাশি নানামুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে তার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।