পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জনাকীর্ণ একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৫ জন। বর্নো প্রদেশের রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার ওই মসজিদে সন্ধ্যার নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণটি ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত কোনো পক্ষ এখনো দায় স্বীকার করেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। ধুলা আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা, আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকে মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানান, তিনি বহু আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হতে দেখেছেন।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ এএফপিকে বলেন, অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় মিলিশিয়া নেতা বাবাকুরা কলো নিহতের সংখ্যা সাত বলে দাবি করেন। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম এবং তাদের সহযোগী আইএস পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বর্নো প্রদেশে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বোকো হারামের সশস্ত্র অভিযান শুরু হয় ২০০৯ সালে। বছরের পর বছর সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চলমান এই সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সহিংসতার প্রভাব শুধু নাইজেরিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একসময় প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি ও বোমা হামলার খবর পাওয়া যেত যে মাইদুগুরিতে, সেখানে গত কয়েক বছরে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। স্থানীয়দের মতে, ২০২১ সালের পর এটিই শহরটিতে সবচেয়ে বড় সহিংস হামলার ঘটনা। সম্প্রতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবারও সহিংসতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।