বিমানবন্দরগামী সড়কে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে সিলেটে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যাত্রা বিরতি শেষে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত সারাদেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এদিকে তারেক রহমানকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে আর তার আগমন ঘিরে বিমানবন্দর ও পূর্বাচল ঘিরে রাখা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা চাদরে। 

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের অবতরণ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর ত্যাগ করা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর, বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা এবং আমদানি-রফতানি পণ্যের ৯ নম্বর গেটসহ সব প্রবেশ ও বহির্গমন পথে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মঞ্চ এলাকায় লাখ লাখ নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। গণ পরিবহন স্বাভাবিক ভাবেই সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে যানবাহন সংকটে শহরের সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তেজগাঁও থেকে মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকট মোড়েই বিএনপির কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে নেতা কর্মীদের। দেখা গেছে সাধারণ পথচারীদেরও। তবে দেখা যায় নি গণপরিবহণ। তাই এই পথে হেঁটেই চলাচল করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের। অনেকে চেষ্টা করছেন বাইক ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে। কেউ কেউ সিএনজি ব্যবহার করছেন। তবে এসব যানবাহনের সংখ্যাও খুবই সীমিত। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে বিদেশ গামীরাও। এমনকি  কোনো কোনো প্রবাসী গাড়ি না পেয়ে মালামাল মাথায় তুলে হাঁটা ধরেছেন। গাড়ি না পেয়ে কেউ কেউ ছোট বাচ্চাসহ হেঁটে রওনা হয়েছেন। 

আবার যেসব সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ঢাকায় এসেছেন তাদেরও গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই ট্রেনে করে বিমানবন্দরে নেমে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য বের হলেও কোনো গণপরিবহন না পেয়ে হেঁটেই রওয়ানা হতে দেখা গেছে। 

 

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে দেশত্যাগের পর এই প্রথম দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য জনসমাগম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।