সব সড়কেই উৎসবের আমেজ 

যেতে যেতে পথে পথে উৎসবের আমেজ। মিছিলে মিছিলে স্লোগান স্লোগানে মুখরিত। কপালে বাঁধা দলীয় ক্যাপ। হাতে পতাকা। যার হাতে নেই তিনিও সড়কে বসা বিক্রেতা থেকে ক্যাপ কিনে নিচ্ছেন। সবার যাত্রা ৩০০ ফুট মুখী। সড়কে শুধু দলীয় পতাকা আর ক্যাপ নয় বিক্রি হচ্ছে বেলুনসহ নানা কিছু। এ যেন এক উৎসবের মাঠ। এত এত আয়োজন এত কিছু ছবি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র করে।

সকাল থেকে ঢাকার আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপরই ঢাকার আকাশের কুয়াশা ভেদ করে দক্ষিণ আকাশে সূর্য উঁকি দেয়। 

পতাকা বিক্রেতা করিম শেখ বলেন, খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। তিন পিস ১০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ধানের শীষের বিক্রিও বেশ ভালো। বিক্রেতা জানান, প্রতি ছড়া ১০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এ সময় কয়েকজনকে কিনতে দেখা যায়। তারা বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। ধানের শীষ আমাদের প্রতীক। প্লাস্টিকের এই ধানের শীষ দেখতে ঠিক আসল ধানের শীষের মত। যেহেতু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে এখানে এসেছি। তাই ইতিহাসের সাক্ষীর স্মৃতি হিসেবে ধানের শীষ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

রামপুরা থেকে শুরু করে বাড্ডা নতুন বাজার নদ্দা কুড়িল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নারী শিশু বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই দেখা গেছে। সবাই যাচ্ছেন তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। সবার মধ্যেই যেন উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা। দলীয় নেতাকর্মীরা আজ উজ্জীবিত।

শরীয়তপুর থেকে আশা একজন বলেন, এত বছর যার অপেক্ষায় ছিলাম, আজ আমাদের সেই মহান নেতার আগমন। আমাদের জন্য আজকের দিনটি সবচেয়ে খুশির দিন। এর চেয়ে আর খুশির দিন আমাদের জন্য কিছুই হতে পারে না।

ঢাকার বাইরের মানুষ অধিকাংশ রাতে চলে আসলেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আজ সকালেই সমাবেশের স্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কেউ কেউ ভোর রাত চারটার দিকেই বাসা থেকে বেরিয়ে সমাবেশের স্থলে এসেছেন।

জুরাইন এলাকা থেকে আসা আহসান হাবিব বলেন, আমি ভোররাতে ৪টায় বাসা থেকে বের হয়ে সংবর্ধনা স্থলে এসেছি। এত কনকনে শীত ছিল তাও আমাকে আটকাতে পারেনি। সব অপেক্ষা করে সেই ভোররাত থেকে আমি আমাদের নেতাকে দেখার অপেক্ষায় আছি।

শুধু আহসান নয়, তার মত এমন অসংখ্য মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারেনি তীব্র শীত আর কুয়াশা। তারা গতকাল সকাল থেকে রাত থেকে অপেক্ষা করছেন সংবর্ধনা স্থলে।