জুমারকালে মৃত্যুর ফজিলত

জুমার দিনে মৃত্যু সৌভাগ্যবান মুমিনের আলামত। এই দিনে মৃত্যুবরণকারীকে কবরের ফেতনা ও আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

শুক্রবার মারা গেলে  জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় কিংবা সরাসরি বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবেন, এ মর্মে কুরআন-হাদিসের কোথাও কোনো দলিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কবরের আজাব থেকে বাঁচার ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন,

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِلَّا وَقَاهُ اللَّهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَاده بِمُتَّصِل

‘যে মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। (তিরমিজি, হাদিস: ১০৯৫; মিশকাত, হাদিস : ১৩৬৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১/১৪৭)

উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলারগণ বলে থাকেন যে, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসেবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা মোটামুটি প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই। (মিনাহুর রাওদিল আযহার ফি শরহি ফিকহিল আকবার, পৃষ্ঠা : ২৯৫-২৯৬)

বোঝা যাচ্ছে, শুক্রবার দিনে অথবা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত এই সময়ে মধ্যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ তাকে কবরের আজাব থেকে ফেতনা থেকে মুক্তি লাভ করিয়ে থাকেন।

আর স্বাভাবিকতই কেউ যদি কবরের অজাব থেকে মুক্তি লাভ করেন, তাহলে কিয়ামতের দিনের হাশরের মাঠে হিসাব-নিকাশ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে বলেও আশা করা যায়।

এই বিষয়টি সম্পর্কে উসমান ইবনে আওফান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কবর হলো আখিরাতের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে প্রথম ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যদি কারও জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেওয়া হয়, এই ঘাঁটিতে যদি কেউ কোনো বড় বিপদে না পড়েন অর্থ্যাৎ সহজেই পার পেয়ে যান- তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো ও তিনি সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন, সেই আশা করা যায়। (সূত্র : শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানি (রহ.); আহকামুল জানাইজ, পৃষ্ঠা : ৫০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হাদিস : ১২৫)

، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ هَانِئًا، مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ كَانَ عُثْمَانُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلاَ تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلاَّ وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ يُوسُفَ ‏.‏

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, ‘আর যদি কবরের ঘাটি কারও জন্য কঠিন হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী যে ধাপগুলো রয়েছে সেগুলো আরও কঠিন হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৮)

এই হাদিসগুলোর আলোকে বুঝা যায়, জুমার দিনে কারও মৃত্যু হলে-সেটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো বা শুভ সংকেত। অর্থাৎ বলা যায় সেই ব্যক্তি ভালো মৃত্যু বরণ করলেন এবং এর ফলে তার আখিরাতের প্রতিটি ধাপ তার জন্য সহজ হবে আশা করা যায়।

তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে জুমার দিনে কেউ মৃত্যু বরণ করলে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন এবং তার কবর আজাব কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সেই মৃত ব্যক্তির জন্য সুধারণা রাখা ভালো।