ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জিলা স্কুলের গৌরবময় ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় শিক্ষাঙ্গণের ক্যাম্পাসে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় দুই দিনজুড়ে প্রাণের উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
১৮৫ বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরে এসে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে। দুই দিনের এ আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা যেন ফিরে যান শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলোতে।
অনুষ্ঠানে সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকিদুল ইসলাম, যিনি ১৯৫২ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। দীর্ঘদিন পর স্কুলে প্রবেশ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এছাড়া ১৯৫৪ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করা বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও পরিব্রাজক হাসনাত আব্দুল হাই ঢাকা থেকে ছুটে আসেন। ১৯৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ ঘোষও বয়সের ভার উপেক্ষা করে প্রিয় স্কুলে উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠানজুড়ে সহপাঠীদের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। বহু বছর পর বন্ধুর দেখা পেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। “এতদিন কোথায় ছিলি বন্ধু?”— এমন কথোপকথনের মধ্য দিয়ে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন তারা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় স্কুলের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঘোষণা দেওয়া হয় ‘ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনের। এতে আহ্বায়ক করা হয় ১৯৮৪ ব্যাচের মির্জা মো. আরিফুর রহমানকে এবং সদস্য সচিব করা হয় ১৯৮৯ ব্যাচের ওয়াহিদ মিয়াকে।
দুদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া। আয়োজক কমিটি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ ভারতের সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর জিলা স্কুল ১৮৫ বছরের পথচলায় এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আন্দোলন ও সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। আজও বিদ্যালয়টি ঐতিহ্য ও গৌরবে অঞ্চলের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বকীয়তা বজায় রেখেছে।
উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং প্রবীণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে ‘পরম্পরা’ নামে ১৯০ পৃষ্ঠার একটি স্মারক সংকলন প্রকাশ করা হয়।
আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর মো. নাসির হোসেন, শহীদুল হাসান, সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, মিজানুর রহমান, আতিয়ার রহমান, শামসুল আলম, জাহাঙ্গীর হোসেন, পান্না বালা, বেনজীর আহমেদ, মো. সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ অনেকে।
দুই দিনের অনুষ্ঠানে ছিল মিনি ম্যারাথন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ ও র্যাফেল ড্র। রাতে দেশের খ্যাতিমান ব্যান্ড শিল্পী জেমসের পরিবেশনায় ব্যান্ড সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে দুই দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর)। ওই দিন সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, উৎসবের পতাকা ও ফরিদপুর জিলা স্কুলের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।