সামছুদ্দিনের মরদেহ পাওয়া গেল দুই দিন পর

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ও সুখচর ইউনিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদীর জাগলারচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার দুদিন পর সামছুদ্দিন নামে একজনের মরদেহ খুঁজে পেয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে জাগলারচরে কেওড়া বন থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, পরিবারের সদস্যরা সামছুর মৃতদেহ বৃহস্পতিবার রাতে খুঁজে পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে সামছুর বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম জানান, কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে তারা জাগলার চরের গহীন জঙ্গলে তার বাবার লাশ খোঁজ করার জন্য যান। সারা দিন খোঁজাখুঁজির পর গত বৃহস্পতিবার রাতে বনের মধ্যে একটি লাশ দেখতে পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। পরে তারা এটি তার বাবার মৃতদেহ বলে শনাক্ত করেন। তবে মৃতদেহের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত মোবারক হোসেন সিহাবের চাচা ও নিহত সামছুর ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে মামলা করেন।

গত মঙ্গলবার সকালে জাগলারচর দখলকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন ও সামছু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সামছুদ্দিন বাহিনীর প্রধান সামছু নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৬), জাহাজমারা ইউনিয়নের পইকবাধা এলাকার শামছুদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন সিহাব (২১), হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষ্মীদিয়া গ্রামের মৃত শাহআলমের ছেলে হক সাব (৫৫), চানন্দি ইউনিয়নের মান্নান নগর এলাকার মৃত সেকুর ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৮) এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম (৫৭)।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সোহরাব (২৫) হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের ছেলে। অন্য আহতরা নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, নিখোঁজ সামছুর মৃতদেহ উদ্ধার করে শুক্রবার (গতকাল) ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।