বগুড়ার শেরপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগের হিড়িক!

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে ঘরোয়া সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় পদ-পদবি থেকে তারা পদত্যাগ করছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাদের আর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিচ্ছেন তারা। শুধু তাই নয়, এসব নেতারা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে সখ্য গড়ে তুলছেন বলে জানা গেছে।

গত ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে ঘরোয়া সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ ২৫ বছরের দলীয় রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (৫৫)। রফিকুল ইসলাম একই ইউনিয়নের আম্বইল গ্রামের বাসিন্দা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিয়ন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদির বড়ভাই ওমর ফারুক ২০১৮ সালে ধড়মোকাম এলাকায় বেশ ঘটা করে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেকের হাতে ফুলের তোরা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে শেরপুর-ধুনটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন মোটর মালিক সমিতির নেতৃত্ব দখল করে দুই মেয়াদে কার্যকরী কমিটির সদস্য ও দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। অথচ ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন মিছিলে তাকে প্রথম সারিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মশিউর রহমান তারা স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জোগসাজশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠ করে দলীয় পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।