আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জনে। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন, পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩১ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৭৩টি। ২০২৫ সালের হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৭ জন। দ্বাদশ নির্বাচনে রংপুরে মোট ভোটার ছিল ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৫০৫ জন (নারী ১২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন, পুরুষ ১২ লাখ ১২ হাজার ৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ২৪ জন)। তখন ভোটকেন্দ্র ছিল ৮৫৮টি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী ও তরুণ ভোটারের বৃদ্ধি নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন ভোটারদের বড় অংশ তরুণ, যারা প্রথমবার ভোট দেবেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকায় প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন।
অন্যদিকে তরুণ ভোটাররা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে মূল্যায়ন করছেন। বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর পর এবার একাধিক দলের প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ভোটের মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরছে বলে মনে করেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, রংপুরের ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাসদ (মার্কসবাদী) সহ বিভিন্ন দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের আমেজ বিরাজ করছে।
রংপুর-১ : গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটিতে দ্বাদশ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ২১৯ জন। আর কেন্দ্র ছিল ১২৩টি। এবার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় ভোটার বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। আর কেন্দ্র বেড়ে হয়েছে ১৩৯টি। এই আসনে ৪৩ হাজার আটজন ভোটার ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রংপুর-২ : বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬ জন। আর কেন্দ্র ছিল ১৩৬টি। এবার ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। বাড়তি এই ২৩ হাজার ৮৭৫ জন তরুণ। ফলাফলে তাদের ভোট ভূমিকা রাখতে আসনটিতে এবার একটি কেন্দ্র বেড়েছে।
রংপুর-৩ : রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০-৩৩ নম্বর ওয়ার্ড, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন মিলিয়ে গঠিত আসনটিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ জন। আর কেন্দ্র ছিল ১৭৫টি। এবার ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। সে হিসেবে আসনটিতে ভোটার বেড়েছে ১৩ হাজার ৪৫৬ জন। তবে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বাদ যাওয়ায় কেন্দ্র কমে হয়েছে ১৬৯টি।
রংপুর-৪ : কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ছয়জন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৩ জন। সে হিসেবে ৩১ হাজার ৫২৩ জন ভোটার বেড়েছে আসনটিতে। এ আসনটিতে কেন্দ্র অপরিবর্তিত।
রংপুর-৫ : মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৫ জন। এবার ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। ভোটার বেড়েছে ২৮ হাজার ৮৫৪ জন। তবে কেন্দ্রের সংখ্যা আগের ১৫২টি।
রংপুর-৬ : পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে দ্বাদশ সংসদে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৪ জন, এবার ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন। ভোটার বেড়েছে ২৫ হাজার ৯৮১ জন। আগের নির্বাচনে কেন্দ্র ছিল কেন্দ্র ১১১টি এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১৩টি।