চাহিদামতো মাদক সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম সরদার এনসিপি নেতা মোতালেব সরদারকে গুলি করেন। এনসিপির যুবশক্তির খুলনা জেলার জেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব তানিয়া তন্বীর বাসায় নিয়মিত মাদকের কারবার হতো। গতকাল শনিবার বিকেলে র্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো . নাজমুল ইসলাম এ দাবি করেন।
তিনি জানান, গত ২২ ডিসেম্বর সকালে নগরীর ১০৯, মজিদ সরণির আল আসকা মসজিদ গলির ‘মুক্তাহাউজ’ নামে একটি বাসার নিচতলায় গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার। পুলিশ সেখান থেকে গুলির খোসা, বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও অনৈতিক কর্মকা-ের আলামত জব্দ করে। এ ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব-৬-এর সদস্যরা বিষয়টি ছায়া তদন্ত শুরু করেন। এ ঘটনায় প্রথমে ২৫ ডিসেম্বর মো. আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে নগরীর বসুপাড়া থেকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম সরদার ওরফে ডিকে শামীম, যিনি ঢাকাইয়া শামীম নামে পরিচিত তাকে ও তার সহযোগী মাহাদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থেকে ১০টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে শামীমসহ চার-পাঁচজন তন্বীর বাসায় যায়। সেখানে আগে থেকেই তন্বী, মোতালেব সিকদার, আরিফ, ইফতি, তন্বীর স্বামী তানভীর, তন্বীর বন্ধু ইমরান ও ইফতির চাচাতো ভাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আগে থেকেই মাদক (ইয়াবা) সরবরাহ করা হতো। মোতালেব শামীমের চাহিদা মতো ইয়াবা দিতে না পারায় তিনি নিজেই মোতালেব সিকদারকে সরাসরি মাথায় গুলি করেন। ঘটনার পর তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীম খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, বিশেষ ক্ষমতা আইন, মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৬) সদস্যরা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে গুলিবর্ষণকারী শামীম সরদার ওরফে ডিকে শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীমসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ নিয়ে এ ঘটনায় এনসিপির যুবশক্তির খুলনা জেলা নেত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।