২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুতে তিন বছরের মধ্যে দুই কোটিরও বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই যানবাহন থেকে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেমসহ মোট টোল আদায় হয়েছে দুই হাজার ৯৩৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৫০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন থেকে শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসিএস) যুক্ত হওয়ায় টোল আদায়ের কার্যক্রম আরও স্বয়ংক্রিয় ও গতিশীল হয়েছে।
সেতু চালুর তিন বছরে সর্বমোট ২ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। চলতি বছরের শেষ ছয় মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৮টি, যেখান থেকে টোল রাজস্ব এসেছে ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা।
প্রতিবছর পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম বছরে মোট ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৯টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল রাজস্ব আসে ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ টাকা। দ্বিতীয় বছরে এই সংখ্যা ৬৮ লাখ এক হাজার ৩৭৪টি এবং টোল আদায় হয়েছে ৮৫০ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা। তৃতীয় বছরে ৬৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৪টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল রাজস্ব আসে ৮৫৮ কোটি ৮৭ লাখ দুই হাজার ৫৫০ টাকা।
এছাড়া, বিশেষ উৎসব বা ছুটির দিনগুলিতে পদ্মা সেতুর টোল রাজস্বে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। পরদিন ৬ জুন ৪০ হাজার ১১৮টি যানবাহন পারাপার হয়ে টোল রাজস্ব আসে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা, যা একদিনে সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড।
পদ্মা সেতু দেশের ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সবচেয়ে বড় বহুমুখী সেতু প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে এবং বাকিটা অর্থ বিভাগের ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। ঋণটি এক শতাংশ সুদসহ ৩৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০৫৬-৫৭ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের চাপ এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। তবুও দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপার এবং রাজস্ব, যা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে।’