যা এক সময় অসম্ভব মনে হতো, তা হয়তো এখন আর অসম্ভব নয়: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিও মেসি একই দলে খেলে তাদের ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন! পর্তুগিজ এই স্ট্রাইকার, বড়দিনের উৎসবের আমেজে অনেকটা সদিচ্ছা থেকেই তার এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্টার মিয়ামির সাথে চুক্তির প্রস্তাব দিতে। মেসির সাথে তার দীর্ঘদিনের যে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তা সরিয়ে রেখে তিনি এমনকি সৌদি আরবে বর্তমানে যা আয় করছেন তার চেয়ে অনেক কম বেতনেও খেলার প্রস্তাব দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকার মনে এক আক্ষেপ রয়ে গেছে যে, তিনি কখনোই লিওর সাথে একই দলে খেলেননি এবং সেই অভিজ্ঞতা ছাড়া তিনি অবসর নিতে চান না। তবে মেসির প্রতি এই হঠাৎ জেগে ওঠা শ্রদ্ধা ছাড়াও এই সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে।
একদিকে, রোনালদো সৌদি আরবে খেলতে খেলতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। সেখানে ফুটবল ম্যাচের চেয়ে উটের দৌড় দেখতে বেশি দর্শক হয়, যা তার অহংকারে আঘাত হেনেছে। দেশটির মানুষ আল-নাসরের হয়ে তার গোলের চেয়ে তিনবারের কিং আব্দুল আজিজ ফেস্টিভ্যাল চ্যাম্পিয়ন উট 'শাবা'র দ্রুতগতি নিয়ে বেশি আলোচনা করে, যা সিআর সেভেন-এর আত্মসম্মানে বড় আঘাত।
আরেকটি বড় কারণ হলো, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোসাদো ক্রিশ্চিয়ানোকে নিশ্চিত করেছেন যে সৌদি আরবের কড়া রোদ তার স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। পর্তুগিজ এই তারকা সবসময় নিজের ত্বককে ট্যানড (রোদে পোড়া তামাটে রঙ) রাখতে পছন্দ করেন। ওই বিশেষজ্ঞ তাকে পরামর্শ দিয়েছেন যে সৌদি আরবের চেয়ে আরও উত্তরের কোনো অঞ্চলের রোদ (যেমন মিয়ামি) তার ত্বকের জন্য বেশি উপকারী হবে। এই পরামর্শই রোনালদোকে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহী করেছে।
ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ হলো তার শারিরীক গঠন নিয়ে উন্মাদনা। সবাই জানে মিয়ামি হলো সমুদ্রসৈকতে বডিবিল্ডিং বা শরীরচর্চার কেন্দ্রবিন্দু। রোনালদো জানেন যে, সাউথ বিচের বালুতে যদি তিনি তার 'সিক্স-প্যাক' প্রদর্শন করতে পারেন, তবে তার ভক্ত সংখ্যা আকাশচুম্বী হবে।
এছাড়া, যারা তাকে চেনেন তারা নিশ্চিত যে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর রোনালদো হলিউডের চলচ্চিত্র জগতে নাম লেখাতে চান। এমনকি গুজব আছে যে, তাকে 'টার্মিনেটর' সিরিজের সপ্তম কিস্তিতে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত সেই বিখ্যাত সাইবর্গ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর সিআর সেভেনের পেশিবহুল শরীরের অভাব নেই। মিয়ামিতে যোগ দেওয়াকে তিনি প্যারামাউন্ট পিকচার্স এবং মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ার স্টুডিওতে প্রবেশের একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সবশেষে, মিয়ামিতে যাওয়ার আরও একটি ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে যা তিনি শুধু তার ঘনিষ্ঠ মহলেই বলেন: ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার নেশায় তিনি বুঁদ হয়ে আছেন। তিনি জানেন একমাত্র মেসিই তার কাছ থেকে এই রেকর্ড ছিনিয়ে নিতে পারেন। তাই তিনি মেসির সাথে খেলতে চান—যাতে সুকৌশলে মেসির কাছ থেকে ফ্রি-কিক এবং পেনাল্টিগুলো কেড়ে নিতে পারেন এবং মেসির জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকে নিজেই গোল করে লাভবান হতে পারেন।
রোনালদোর এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেবে কি না তা দেখার বিষয়। তবে পর্তুগিজ তারকার একটি সুবিধার জায়গা হলো ইন্টার মিয়ামির সহমালিক ডেভিড বেকহ্যাম। বেকহ্যামের কাছ থেকেই তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ৭ নম্বর জার্সিটি পেয়েছিলেন এবং মজার ব্যাপার হলো, তাদের প্লাস্টিক সার্জনও নাকি এক। আর এটিই তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে।
পাদটীকা: প্রতিবেদনটি মূলত ২৮শে ডিসেম্বর স্পেনের 'দিয়া দে লোস সান্তোস ইনোসেন্টেস' (যা এপ্রিল ফুলের মতো) উপলক্ষে স্প্যানিশ গণমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোতে প্রকাশিত একটি ব্যাঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক সংবাদ