মিয়ানমারের বিস্ফোরণে কাঁপল টেকনাফ সীমান্তের বাড়িঘর

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত পরপর তিনটি শক্তিশালী বড় বিস্ফোরণে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের এ পারের বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে। গতকাল রবিবার মধ্যরাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব বিস্ফোরণের শব্দের তীব্রতা অনুভূত হয়।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। জান্তা বাহিনী আরাকান আর্মির দখলে থাকা একাধিক শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধারে সেখানে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। অপরদিকে আরাকান আর্মিও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে গতকাল মধ্যরাতে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জানা গেছে, জান্তা সরকার রাখাইনের বলিবাজার এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব বিস্ফোরণের প্রভাব টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অনুভূত হয় এবং সীমান্তবর্তী বাড়িঘর কেঁপে ওঠে।

হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা ফরিদ সওদাগর জানান, রবিবার মধ্যরাতে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তার বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে। তিনি আরও জানান, মনে হচ্ছিল বজ্রপাত ও ভূমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি পরিবার নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে অবস্থান করি।

হ্নীলার বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিকট বিস্ফোরণের শব্দে তারা চরম আতঙ্কে পড়ে যান । হঠাৎ করে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধরা ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে।

জানতে চাইলে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, মধ্যরাতে সীমান্তে তিনটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের বিকট বোমার শব্দ শুনতে পাই। আমার বাড়িও একদম সীমান্তের কাছে হওয়ায় বাড়িঘর থরথর করে কেঁপে উঠেছে, ছেলেমেয়েরা থমকে উঠল, সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, রাতেই বিষয়টি অবগত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেন এবং নিরাপদে থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।