ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলির কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে তিনি গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের প্রার্থী হিসেবে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনছার আলী সরদার, মাওলানা আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মান্নান মন্ডল, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল হক রেজা, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন মুক্তি, সাংগঠনিক আনোয়ার হোসেন, মোসলেম আলী ও মহাসচিবের বিশেষ সহকারী নুর মোহাম্মদ রাফিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমন প্রত্যাশা করছি। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন। তাদের সেই আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় পার্টি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই নির্বাচনের পথে এসেছি। তবে নির্বাচনে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ভোটের মাঠে থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।
জোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করছি। যদি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়, তাহলে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সমঝোতা না হলে জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় পার্টির তিনজন প্রার্থী এখনো রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে আছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য তাদের জামিনের বিষয়ে সরকার বিবেচনা করবে বলে আশা করছি। সেই সাথে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সুদৃঢ় হবে।