দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কলকাতার ঔপনিবেশিক ভবনঘেরা রাজপথে ট্রামের ঘণ্টাধ্বনি শহরের চেনা সুর হয়ে উঠেছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাত্রী পরিবহন করা এ যানব্যবস্থা এখন বিলুপ্তির মুখে। আধুনিক অবকাঠামো ও দ্রুতগতির পরিবহনের দিকে ঝুঁকতে গিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো ট্রাম নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫২ বছরের পুরোনো ট্রাম ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে কেবল একটি ছোট 'হেরিটেজ রুট' চালু রাখা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছেন শহরের বাসিন্দা ও ঐতিহ্য রক্ষাকর্মীরা।
১৮৭৩ সালে ঘোড়ায় টানা ট্রাম দিয়ে যাত্রা শুরু হয় কলকাতায়, যা ১৯০২ সালে বিদ্যুতায়িত হয়। একসময় সারা শহরজুড়ে তিন শতাধিক ট্রাম চলাচল করলেও বর্তমানে মাত্র দুইটি রুটে হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাম চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিপো বিক্রি ও ট্রাম বাতিলের প্রক্রিয়া চলায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ট্রাম ব্যবহারকারীদের সংগঠন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিটিইউএ) ২০১৬ সাল থেকে ট্রাম রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সংগঠনের সদস্যদের মতে, ট্রাম কেবল একটি পরিবহন নয়, বরং কলকাতার ইতিহাস ও স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে সরকার মেট্রো সম্প্রসারণ, সড়ক প্রশস্তকরণ ও নতুন মহাসড়ক নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। আদালতের পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রামগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থাকছে। নস্টালজিয়ায় বাঁচিয়ে রাখা এই যান কি আদৌ টিকে থাকবে, নাকি ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।