ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ আসনে ২১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে মোট ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৩ জন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৮ জন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে পরিচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. খাদেমুল ইসলাম। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াই ঘিরে সদর উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া।

ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈলের একাংশ) এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন— বিএনপির প্রার্থী ডা. মো. আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. আব্দুল হাকিম, জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম, গণঅধিকার পরিষদের মো. ফারুক হোসেন, এবি পার্টির মো. নাহিদ-রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রেজাউল করিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শাহাব উদ্দিন আহম্মেদ। বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নতুন দলগুলোর প্রার্থীরা এই আসনের ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-৩ পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, জামায়াতে ইসলামীর মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম, গণঅধিকার পরিষদের মো. মামুনুর রশিদ মামুন, ইসলামী আন্দোলনের মো. আল আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান সরকার, বিএমজেপির কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনি।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলোও নিজেদের ভোটব্যাংক ধরে রাখতে সক্রিয় রয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।