ফেনীর সোনাগাজীর ওসমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের অবৈধভাবে পুনর্বহালের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) স্কুল গেইটে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বহিষ্কৃত গিয়াস উদ্দিনের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে সোনাগাজী উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ধংসের দারপ্রান্তে। তারা অভিযোগ করেন, একশ্রেণির সুবিধাবোগী গোষ্ঠী মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দুর্নীতিবাজ গিয়াস উদ্দিনকে আবার স্কুলে পুনর্বহাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আমরা কোনও অবস্থাতেই তাকে স্কুলে ঢুকতে দেব না।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বগাদানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ছাত্র অভিভাবক শাহ আলম, জাপর ইকবাল মানিক, ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন প্রমুখ। এ ছাড়া স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক, ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, ওছমানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের পর হতে তার স্বেচ্ছাচারিতা, টাকা আত্মসাৎ, খরচের ভাউচারে টেম্পারিং, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম, দুনীর্তি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়ে ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ২৬ মাস পরে প্রতারণা করে বিদ্যালয়ে অবৈধ প্রবেশ করে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে জেলা প্রশাসক ফেনী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনাগাজী, জেলা শিক্ষা অফিসার, ফেনী, বগাদানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। পতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। পরে ২০১৪ সালে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত বহিষ্কার হয়েছিলেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি গোপনে বিদ্যালয়ের নামীয় চেক বই, অফিস ও আলমিরার চাবি, ভাইচারের মূল কাগজপত্র, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকদের কিছু মূল সনদ, বিদ্যালয়ের জমির দলিল, সরকারি ও বেসরকারি বেতনের রেজিস্টার নিয়ে যান। কার্যনিবাহী পরিষদের সভার ১৬ বছরের রেজুলেশন বই, বিদ্যালয়ের নামীয় আফডিআরের মূল কাগজপত্র, বিদ্যালয়ের টাকায় কেনা মোবাইল সেট ও সিম নিয়ে যান। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০২৪ সালের ১১ ও ১২ আগস্ট দুই লক্ষ টাকা ও ২০ হাজার টাকা রূপলী ব্যাংক, কুঠিরহাট শাখা থেকে উত্তলন করে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া শিক্ষক কর্মচারীদের দুই মাসের পিএফের ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিটিএর ছয় মাসের চাঁদা ৭ হাজার দুই শ টাকা আত্মসাৎ করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাল ফান্ড করে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ব্যাপারে তার গ্রামের বাড়ি এবং ফেনীর বাসার ঠিকানায় বার বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও তিনি গ্রহণ না করে বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ও দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন।
এদিকে গিয়াস উদ্দিন তার বহিষ্কারাদেশ গোপন করে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিয়ে বরখাস্তের আবেদন প্রত্যাহার করে পুনরায় স্বপদে বহালের জন্য অনুমতি দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, সাময়িক বরখাস্তের ৬ মান পর তিনি তার সপদে ফিরে যেতে পারেন।